1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান Md. Motiur Rahman’s travel permit to the United Arab Emirates শান্তিগঞ্জে সবার জন্য প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় উদ্বোধন

ভাত ছাড়াই ৩৫ বছর কাটালেন ‘রুটি’ শরিফ

প্রথম সিলেট ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১১২ বার পঠিত
‘মাছে ভাতে বাঙালি’ চিরায়ত এ প্রবাদকে মিথ্যা প্রমাণ করলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শরিফ নামে এক যুবক। তার ৩৫ বছরের জীবন কেটেছে ভাত না খেয়েই।
শিশুকাল থেকেই তিনি ভাতের পরিবর্তে রুটি খেয়েই জীবন শুরু করেন। এ কারণে এলাকায় তাকে ‘রুটি’ শরীফ নামে পরিচিত তিনি।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) সরেজমিনে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটি ইউনিয়নের মৃত রজব আলী মোল্লার সন্তান শরিফ মোল্লা পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিশা চালক। তার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রয়েছে, রুটি, সবজি সঙ্গে মাংস কিংবা ডিম ভাজি।
কখনো তিনি ভাত খাননি।
শরিফের পরিবার ও গ্রামবাসীরা জানায়, ছয় মাস বয়সে শরিফের মুখে ভাত তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে তার মা।
শিশুকালেই ভাত উগ্রে দিয়েছিল শরিফ। এরপর বারবার তাকে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েও ব্যর্থ হয় পরিবারের লোকজন। শুধু ভাত নয়, চালের তৈরি কোনো প্রকার খাবারই খাননি শরিফ। তার প্রিয় খাবার রুটির সঙ্গে সবজি বা ভাজি। কখনো কখনো রুটির মাংস বা ডিমও খান। তার এমন খাদ্যাভাসের কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একজন বাংলাদেশি বাঙালি হয়ে কীভাবে ভাতবিহীন বেঁচে আছেন শরিফকে দেখতে প্রায়ই বাড়িতে লোকজন ভিড় জমান। এভাবে তিনি এলাকায় ‘রুটি’ শরিফ নামে পরিচিত হয়েছেন।
প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে করেছেন শরিফ। বর্তমানে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার স্ত্রী আমেনাও প্রথম দিকে স্বামীর এমন খাদ্যাভাসে অবাক হয়েছিলেন।
শরিফের মা সাবেয়া বেগম বলেন, তার দুই ছেলের মধ্যে শরিফ ছোট। জন্মের পর ছয় থেকে সাত মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ পান করেছে সে। এরপর তাকে ভাত নরম করে মুখে দিলে বমি করে ফেলে দিতো। এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর আটার রুটি বানিয়ে মুখে দিলে তা খেতে শুরু করে। সেই থেকে শুরু হলো রুটি খাওয়া যা আজও চলছে।  শিশুকালে কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে তার জন্য রুটি বানিয়ে নিয়ে যেতে হতো। আবার কোথাও কোনো দাওয়াত খেতে গেলে আলাদা রুটির ব্যবস্থা থাকতো তার জন্য। ৩৫ বছর ধরে এভাবেই চলে আসছে তার জীবন। আজীবন রুটি তৈরি করে দেওয়ার শর্তেই শরিফকে বিয়ে করানো হয়।
শরিফের স্ত্রী আমেনা খাতুন বলেন, বিয়ের দিন সবাই এসে বলে, তোর স্বামী ভাত খায় না, তাকে রুটি বানিয়ে দিতে হবে। প্রথম দিকে আমি বিষয়টি শুনে অবাক হই। বিয়ের পর দেখি সত্যিই তিনি ভাত খান না। এখন আমারও অভ্যাস হয়ে গেছে। সবার জন্য ভাত রান্না করলেও তার জন্য রুটি তৈরি করে দেই। আমাদের যেমন ভাত ছাড়া তৃপ্তি হয় না, তেমনি শরিফ রুটি ছাড়া তৃপ্ত হয় না।
শরিফের চাচি ঝর্ণা বেগম জানান, ছোট বেলায় চাচাতো ভাই-বোনেরা নানাভাবে শরিফেকে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু ভাতের কথা বলতেই ক্ষেপে যেত।
শরিফের বড় ভাই আরিফ বলেন, বাবা রজব আলী বেঁচে থাকতে চিংড়ি মাছের মধ্যে ভাত দিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শরিফ চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে ভাত ফেলে দিয়ে শুধু চিংড়ি মাছ খেয়েছিল। এছাড়া ভাত খাওয়ানোর জন্য বিভিন্ন চিকিৎসক এবং কবিরাজের কাছে নেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। এখন সবকিছু বাদ দিয়ে শরিফের রুটি আসক্তিতেই সবাই অভস্ত্য হয়ে গেছে।
শরিফের এ খাদ্যাভ্যাসের কারণে এলাকায় ‘রুটি’ শরিফ হিসাবে পরিচিত। লাজুক প্রকৃতির এ ব্যক্তি যেখানেই যান কেবল একটি প্রশ্নই ঘুরেফিরে শুনতে হয়-‘কেন ভাত খান না আপনি’? প্রথমদিকে বিব্রত হলেও এখন সয়ে গেছে তার। ব্যাতিক্রমী খাদ্যাভ্যাসের কারণে পরিচিতি পাওয়া শরিফ এখন ক্ষেপে না গিয়ে উপভোগ করেন নিজের পরিচিতিকে। বাকি জীবন এই রুটি খেয়েই কাটাতে চান বলেও জানান এ যুবক।
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর