
বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। বিশেষ করে বাঙালিদের কাছে। তাদের ক্ষেত্রে ভাত না হলে চলেই না। ভাত খেলে অবশ্য নানা পুষ্টি মেলে। একইসঙ্গে শক্তিও পাওয়া যায়। আর শক্তি সংগ্রহে সঠিক সময় খাওয়া জরুরি।
ভাতের মতো এই উপকারি খাবার নিয়েও অনেকের মধ্যে আবার বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই স্বাস্থ্য বেড়ে যাওয়ার জন্য ভাতকে দায়ী করেন। তাদের মতে, ভাত খেলে ওজন বেড়ে যায়। আবার উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচক পরিশোধিত সাদা চাল রক্তে শর্করা বৃদ্ধি করে। কিন্তু আসলেই কি বিষয়টি তাই? এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী ওয়েবসাইট হেলথশটস। এবার তাহলে বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা সাদা ভাতে পুষ্টির মধ্যে রয়েছে ৬৮.৮ গ্রাম পানি, ১৩০ কিলোক্যালরি শক্তি, ৫৪৪ কিলোজুল শক্তি, ২.৬৯ গ্রাম প্রোটিন, মোট লিপিড (চর্বি) ০.২৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ২.৮২ গ্রাম, ডায়েটারি ফাইবার ০.৪০ গ্রাম, শর্করা ০.০৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম।
ভাত কি স্বাস্থ্য বাড়ায়: ভাতকে সুপারফুড বলা হয়। এটি সরাসরি পেটের চর্বি বৃদ্ধি করে না। তবে এর খাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কারণে ওজন বৃদ্ধি হয়ে থাকে।
গ্লাইসেমিক সূচক ও রক্তে শর্করা বৃদ্ধি: ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বোহাইড্রেট হিসেবে সাদা চাল উচ্চ গ্লাইসেমিক যুক্ত এবং এটি রক্তে শর্করা বৃদ্ধি করে থাকে। এ কারণে ইনসুলিন নিঃসরণ ঘটায়, হরমোন চর্বি সঞ্চয় করে, বিশেষ করে পেটের অংশে। এ জন্য ভাত খাওয়ার কারণে পেট মোটা হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে চালের ওপর।
সাদা চালের বিপরীতে বাদামি বা লাল চালে গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে। তাই এ চালের ভাত খেলে ইনসুলিনের মাত্রা ধীর এবং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়। কম ইনসুলিন চর্বি জমার সম্ভাবনা কমায়। এ জন্য পেটের চারপাশ বৃদ্ধি বা মোটাও হয় না।
ক্যালোরি গ্রহণ ও খাবার নিয়ন্ত্রণ: যদি মনে করেন ভাত আপনার পেট বা স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করছে, তাহলে আপনি খাবার গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করেন না। চর্বিযুক্ত তরকারি ও সসজাতীয় খাবার খাওয়ার ফলেও স্বাস্থ্য বেড়ে যায়। ভাত হচ্ছে ক্যালোরিসমৃদ্ধ খাবার, যা অতিরিক্ত খাওয়া হলে স্বাস্থ্য বাড়বে। আর উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ করলে স্বাস্থ্য বাড়বেই। এ জন্য খাবার গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। পাশাপাশি ক্যালোরি পুড়াতে নানা ধরনের চর্চা করতে পারেন।
ফাইবারের অভাব: ভাতে ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে এবং তা হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে ভাত আপনার স্বাস্থ্য বাড়াচ্ছে কিনা, তা বোঝার জন্য খাওয়ার কতক্ষণ পর ক্ষুধা অনুভব করেন, সেটি পরীক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে ডায়েটিশিয়ান গৌরী আনন্দ বলেছেন, ফাইবারের অভাব ক্ষুধার্ত এবং অতিরিক্ত খাওয়ার অনুভূতি জাগাতে পারে।
স্বাস্থ্য না বাড়িয়ে ভাত খাওয়ার উপায়: ভাত খাবেন তবে স্বাস্থ্য বাড়বে না, যদি এমনটা চান তাহলে আপনাকে বাদামি বা লাল চাল বেছে নিতে হবে। এটি শস্য ও ফাইবার সমৃদ্ধ, যা তৃপ্তি বাড়ায় এবং হজমে সহায়তা করে। এর গ্লাইসেমিক সূচক কম, রক্তে শর্করার মাত্রাও ধীর এবং স্থিরভাবে তা বৃদ্ধি করে। চর্বি সঞ্চয়ের ঝুঁকিও বেশ কম।
ভাত খাওয়ার সময় শাকসবজি ও প্রোটিনের উৎস যেমন মসুর, ছোলা বা মুরগি রাখুন তরকারিতে। খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখুন। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করুন এবং অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ভাত রান্নার সময় সঠিকভাবে রান্না করুন। ভাত যেন ভালোভাবে সিদ্ধ হয়, তা খেয়াল রাখুন। এছাড়া ভাজা বা তেল বা ঘি-যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.