ডিবির পরিচয় দিয়ে হাতকড়া পরিয়ে মাইক্রোতে উঠিয়ে নেওয়া হয় আরমান মিয়া (২৭) নামের এক যুবককে। চলন্ত অবস্থায় বেশ কয়েকজন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে আহত করে। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। গোঙানির শব্দ শুনে এক সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বর্তমানে ওই যুবক গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আহত ওই যুবক হচ্ছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ধুরুয়া গ্রামের মো. মোন্তাজ আলীর ছেলে মো. আরমান মিয়া। সম্প্রতি তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরমান মিয়া জানান, গত রবিবার (১৯ জানুয়ারি) তিনি নান্দাইল সদর থেকে রাত ৯টায় নিজবাড়ির দিকে রওনা হন।
পথে একটি মাইক্রোবাস তার পথরোধ করে দাঁড়ায়। এ সময় ভেতর থেকে প্রায় ৭/৮জন নেমে ডিবি পরিচয় দিয়ে হাতকড়া পরিয়ে চর-থাপ্পড় দিতে দিতে গাড়িতে প্রবেশ করায়। পরে হাত-পা বেঁধে কিছুদূর গিয়ে চলন্ত অবস্থাতেই কোনো কিছু না বলেই হাতুড়ি দিয়ে পেটানো শুরু করেন। এভাবে থেমে থেমে তাকে পেটানো হয়।
এক পর্যায়ে ত্রিশাল বালিপাড়া সড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে হাতকড়া খুলে পূর্ব থেকে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য এক ব্যক্তির কাছে তুলে দেয়। ওই ব্যক্তি মুখে মাস্ক খুললে চিনতে পারেন তিনি তার প্রতিবেশী উসমান খাঁর ছেলে তানভির। কি কারণে তাকে এখানে আনা হয়েছে জানতে চাইলে তানভির জানান, ‘লাখ টাকার কন্ট্রাক্টে তুলে আনা হয়েছে।’ এই বলে ফের ব্যাপক পিটিয়ে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।
তিনি জানান, তিনি রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে একজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এখানে তার জ্ঞান ফিরে আসে। পরে জানতে পারেন উদ্ধার করা ব্যক্তি হচ্ছেন একজন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক। তার বাড়ি ত্রিশালের কালিরবাজার এলাকায়। তানভির কেন তাকে ধরে এনে মারপিট করেছেন এমন প্রশ্ন করলে আরমান জানান, বিদেশ থেকে আসার পরপরই তার কাছে তানভির ৫ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বেশ কয়েকবার দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
জানতে চাইলে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নান্দাইল থানার ওসি বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।
নান্দাইল থানার ওসি ফরিদ আহম্মেদ জানান, এ বিষয়ে জানতে পেরে আহত আরমানের পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.