মানবজীবনের পথে অদৃশ্য এক ভাঙন যেন ক্রমশ জড়িয়ে ধরছে তরুণদের চেতনাকে। একদিকে প্রযুক্তির ঝলমলে মোহ, অন্যদিকে মূল্যবোধের অবক্ষয়—এই দ্বিমুখী টানাপোড়েনে পথ হারিয়ে ফেলছে একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম। এমন এক সন্ধিক্ষণে আলোর পথের সন্ধান দেয় সেই চিরন্তন গ্রন্থ—কুরআন।
এই মহাগ্রন্থ নিছক কোনো ধর্মীয় অনুশীলনের নিয়মপুস্তক নয়; বরং এটি মানুষের অন্তর, মনন ও নৈতিকতার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। একটি আয়াতে বলা হয়েছে—“নিশ্চয়ই এই কুরআন সঠিকতম পথের দিকেই পথনির্দেশ করে” (সূরা আল-ইসরা: ৯)।
এ যেন তরুণদের জন্য এক উজ্জ্বল বাতিঘর, যেখান থেকে তারা পেতে পারে আত্মপ্রবুদ্ধির আলোকছটা।
আজকের তরুণ সমাজ দাঁড়িয়ে আছে এক ক্রান্তিকালে। ফ্যাশন, ফলোয়ার আর ফেমের দৌড়ে তারা হাঁপিয়ে উঠেছে, অথচ চায় শান্তি—চায় স্থায়িত্ব। কিন্তু এই স্থায়ী প্রশান্তির ঠিকানা তারা কোথায় খুঁজবে?
উত্তর একটাই—কুরআনে, যে বলে সত্য, শেখায় সহনশীলতা, গড়ে তোলে চারিত্রিক দৃঢ়তা।
প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সদাচারের পূর্ণতা সাধনের জন্য।” (সহীহ বুখারী)
এই হাদীস তরুণদের উদ্দেশ্যে যেন এক উদাত্ত আহ্বান—“চরিত্র গঠন করো, কারণ নৈতিকতাই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।”
নজর দিলে দেখা যায়, পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সূরায় বারবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিনয়, সত্যবাদিতা, ধৈর্য, এবং আত্মসংযমের ওপর। সূরা লুকমানে এক পিতা তার সন্তানকে বলছেন—
“কখনো অহঙ্কারী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না, এবং পৃথিবীতে ঔদ্ধত্যভরে চলাফেরা কোরো না। বিনয়ীদের কেউই ব্যর্থ হয় না।” (সূরা লুকমান: ১৮-১৯)
এই আয়াত যেন তরুণদের শেখায়—শক্তি শব্দে নয়, শুদ্ধতাই প্রকৃত শক্তি।
তারা শিখতে পারে, কণ্ঠস্বর যত মৃদু, আচরণ যত মার্জিত, জীবন তত গভীর হয়।
ইতিহাস বলে, নবীজি (সা.)-এর আশপাশে যারা ছিলেন—তারা অধিকাংশই ছিলেন তরুণ। আলী ইবনে আবু তালিব, মুয়াজ ইবনে জাবাল, উসামা ইবনে যায়েদ—তাঁরা কুরআনের আলোয় নিজেদের জীবন গড়েছিলেন, আর সেই আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলেন দিগ্বিদিক।
তরুণরাই পারে সমাজকে পাল্টাতে, যদি তারা ফিরে আসে মূল উৎসে—আল্লাহর বাণীতে।
তাদের হাতে কুরআন থাকলে, তারা আর দিশেহারা নয়। বরং হয়ে উঠবে আলো বহনকারী, অন্ধকার দূরকারী এক দীপ্ত প্রজন্ম।
আজ প্রয়োজন শুধু একটি সিদ্ধান্ত—জীবন গড়ার জন্য, সমাজ বদলানোর জন্য, এক অনন্ত শক্তির উৎসে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।
সেই উৎস, যার বাণী যুগে যুগে বদলালেও, নিজে কখনো বদলায় না।
কুরআন শুধু জানার জন্য নয়—জাগ্রত হওয়ার জন্য।
এই সত্য বুঝে যে তরুণ সামনে এগোয়, সে নিজেই এক নতুন দিনের সূর্য হয়ে ওঠে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.