
সুনামগঞ্জের ছাতকে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলায় সোনাফর আলী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তিনি উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের দিঘলী বেরাজপুর গ্রামের মৃত মুসলিম আলীর ছেলে।
জানা যায়, দিঘলী বেরাজপুর গ্রামের রাস্তার পাশ দিয়ে পিডিবি বিদ্যুতের লাইন বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু ওই লাইনে মাঝে মধ্যে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। তারে লাঠি দ্বারা আঘাত করলে বিদ্যুত সংযোগ সচল হয়। সোমবার সন্ধ্যায় পাশের বাড়ির কয়েছ মিয়ার স্ত্রী সেলিনা বেগম বিদ্যুতের লাইনে লাঠি দ্বারা আঘাত করেন। এসময় মৃত মসলিম আলীর ছেলে সোনাফর আলী দেখেন তার ঘরে বিদ্যুত ছিল কিন্তু লাইনে আঘাত করায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ নিয়ে সেলিনার সাথে কথা কাটাকাটি হয় সোনাফর আলীর। সেলিনার পক্ষ নেয় তার স্বামীর চাচাতো ভাই ময়না মিয়ার ছেলে লেগুনা চালক তাজ উদ্দিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য স্থানীয় কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিশে বসেন। সালিশ চলাকালে দুই পক্ষ হঠাৎ উত্তেজিত হলে সালিশ ব্যক্তিরা তাদেরকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। এক পক্ষ ঘরে ফিরে দিলে অপর পক্ষের তাজ উদ্দিনরা সোনাফর আলীকে একা পেয়ে মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি দিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ওই সালিশ ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধার করে রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
মঙ্গলবার লাশের ময়না তদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দাফন করা হয়েছে। এদিকে বৃদ্ধের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে রাতেই হামলাকারিরা গা ঢাকা দিয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই ছাতক থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এদিকে, নিহত সোনাফর আলীর ছেলে জায়েদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন সালিশ ব্যক্তিদের কথায় তারা দুই ভাই বসতঘরে ফিরে যান। এসময় ময়না মিয়ার ছেলে স্ত্রী হত্যাকারি তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে ৮-১০জনের একটি সংঘবদ্ধরা তার পিতাকে একা পেয়ে মাটিতে ফেলে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি তার পিতা হত্যার বিচার চান।
এ ব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান আকন্দ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.