1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি নেতা সাজলের আকস্মিক মৃত্যুতে এমপি কয়ছর আহমদ সহ বিভিন্ন মহলের শোক শ্রীমঙ্গলে দস্যুতার মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান

টাঙ্গুয়া হাওর রক্ষা করতে নতুন উদ্যোগ

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫
  • ১১৪ বার পঠিত

 

বিশ্ব ঐতিহ্য রামসার সাইট সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়া হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রকৃতি-ভিত্তিক জীবিকায়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জিইএফ সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউএনডিপি যৌথভাবে “টাঙ্গুয়া হাওর জলাভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য জনগণ ভিত্তিক প্রকল্প” আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। 

এ উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় পর্যায়ের সূচনা কর্মশালা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত সোমবার (৩০ জুন) দিনব্যাপী। এর আগে রবিবার দিনব্যাপী সভা চলে তাহিরপুর উপজেলায়। গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)-এর অর্থায়নে পরিচালিত ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের লক্ষ্য টাঙ্গুয়া হাওরে জলাভূমি সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা। এর আওতায় থাকবে সহ-ব্যবস্থাপনা, জলজ বন ও জীববসতি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আর বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ শাসন ও প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানে প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। স্থানীয় উদ্বেগ ও সম্ভাব্য সমাধান কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীগন হাওরের নাজুক প্রতিবেশব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ অনেক সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়।

তন্মধ্যে- বিধ্বংসী মাছ ধরার উপকরণ (কারেন্ট জাল, লেজার লাইট) ব্যবহার, অবৈধ পাখি শিকার, কান্দা এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন, পলি জমে যাওয়া ও ক্ষতিকর খনন কার্যক্রম, নিয়ন্ত্রণহীন হাউসবোট পর্যটনের কারণে প্লাস্টিক, মানব বর্জ্য, শব্দ ও আলো দূষণ, গবাদিপশুর অতিরিক্ত চারণ ও অনিয়ন্ত্রিত হাঁস পালন, পর্যাপ্ত আইন প্রয়োগের ঘাটতি, স্থানীয় দরিদ্র জনগণ ও জেলেদের জন্য বিকল্প জীবিকার অভাব ইত্যাদি। স্থানীয় স্তর থেকে প্রস্তাবিত করণীয় এই সমস্যা সমাধানে অংশগ্রহণকারীরা নিম্নলিখিত জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।

দায়িত্বশীল পর্যটনের জন্য নির্দেশিকা প্রণয়ন ও হাউসবোটের সংখ্যা হ্রাস, মানুষ্য সৃষ্ট বর্জা ও প্লাষ্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা নির্মাণ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার উপর মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা জারি, স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার, পাখি-মাছ সংরক্ষণের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা এবং জলজ বন পুনরুদ্ধার, দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থাপনায় জন-ব্যক্তি-সম্প্রদায় অংশীদারিত্বে কমিটি গঠন, “দূষণকারী-পরিশোধক নীতি” এবং প্রতিবেশ সেবা প্রদান বাবদ অর্থ প্রদানেরব্যবস্থা চালু, অবশিষ্ট বিলে ইজারা ব্যবস্থা পর্যায়ক্রম বাতিল, আয় সৃষ্টির সুযোগ তৈরি ও জীবিকা সহায়তা কার্যক্রম চালু, ট্যুর অপারেটর, পর্যটক, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের জন্য সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু।

পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. অঞ্জন কুমার দে বলেন- আমাদের কর্মকাণ্ড যেন হাওরের পরিবেশগত ধারণক্ষমতার বাইরে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ফ্রি রাইডিং ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এখন বড় হুমকি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন- প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশগ্রহণ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের জন্য যথাযথ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।

ইউএনডিপি-এর প্রোগ্রাম স্পেশালিষ্ট মি. আরিফ ফয়সাল বলেন- অনিয়ন্ত্রিত হাউসবোট পর্যটন যদি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে আনা না হয় এবং আইনের প্রয়োগ জোরদার না করা হয় তাহলে সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মি. সোলায়মান হায়দার তাঁর বক্তব্যে নীলাদ্রি ও ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় প্লাস্টিক-বর্জ্য দূষণ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কর্মশালায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ সংস্থা, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, এনজিও, গণমাধ্যম এবং বেসরকারি খাতের শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।  অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে একটি বাস্তবভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যা আগামী ৫ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকিতে সহায়ক হবে।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর