জৈন্তাপুর উপজেলার গড় পাশের হার ৬৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০২৫ সালের এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) এবং সমমানের পরীক্ষায় সিলেটে এ বছর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১,৯৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১,৩৫৮ জন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ বছর ২৩ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় ১,৫০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১,০০০ জন। পাশের হার ৬৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ পর্যায়ে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, যার পাশের হার ৮৪.৮০% এবং সর্বোচ্চ ৮টি জিপিএ-৫ এসেছে এই প্রতিষ্ঠান থেকেই। এছাড়া ভালো ফল করেছে সেন্ট্রাল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয় (৭৭.৬০%) এবং রমজান রূপজান বাগেরখাল একাডেমী (৭৫.৭৩%)। হরিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এর পাশের হার ৬৩.২৪%।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২০২ জন। পাশের হার ৬৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ খাতে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে সারীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়, যেখানে পাশের হার ৯৩.৬১% এবং ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়াও ভালো ফল করেছে জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ, আমিনা হেলালী টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, এবং রমজান রূপজান বাগেরখাল একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮৫ জন শিক্ষার্থী, এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৬ জন। পাশের হার ৮৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। এই খাতে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে ধরিল নেজামুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা, যাদের পাশের হার ৯৭.৪৪% এবং চ্যারিকাটা দারুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা যার পাশের হার ৯৭.০৬%।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আজিজুল হক খোকন বলেন, সামগ্রিকভাবে এ বছরের ফলাফল মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তাদেরকে শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অভিজিৎ কুমার পাল বলেন, উপজেলায় শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। অতিরিক্ত ক্লাস, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পাশের হার এবং জিপিএ-৫ অর্জনের হার বাড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
জাফলং ভ্যালি স্কুল থেকে অংশগ্রহণকারী ৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে, যার ফলে এ প্রতিষ্ঠান ১০০% পাশের হার অর্জন করেছে।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বছরগুলোতে এ ফলাফল আরও উন্নত হবে এবং জৈন্তাপুর উপজেলাকে একটি শিক্ষাবান্ধব ও মেধা বিকাশমূলক অঞ্চলে রূপান্তর করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.