1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি নেতা সাজলের আকস্মিক মৃত্যুতে এমপি কয়ছর আহমদ সহ বিভিন্ন মহলের শোক শ্রীমঙ্গলে দস্যুতার মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান

৫ আগস্ট দুপুরে বুঝতে পারি, হাসিনার পতন হবে: জবানবন্দিতে চৌধুরী মামুন

প্রথম সিলেট ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৭ বার পঠিত

২০১৮ সালের নির্বাচনে অনিয়ম, গুম, খুন এবং চলতি বছরের ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে মুখ খুলেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী মামুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক মামলায় দেওয়া পাঁচ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, “৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে বুঝতে পারি শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা ছাড়বে।”

এ বছরের ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে চৌধুরী মামুন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন আন্দোলন দমন, সরকারের সিদ্ধান্ত, বাহিনীগুলোর ভূমিকা ও নিজ অবস্থান।

জবানবন্দিতে মামুন বলেন, ৪ আগস্ট বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক হয়। এতে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, বৈঠকে আন্দোলনের বিস্তার নিয়ে আলোচনা হলেও সরকারের পতন বা রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে কোনো কথা হয়নি। তবে তিনি ও অন্য কর্মকর্তারা সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরতে চাইলেও সরকার তা শুনতে প্রস্তুত ছিল না বলে মন্তব্য করেন।

সেই রাতেই আবার গণভবনে আরেকটি জরুরি বৈঠক হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, মন্ত্রীরা, তিন বাহিনীর প্রধান, র‍্যাব ডিজি, এবং চৌধুরী মামুন উপস্থিত ছিলেন। মামুন বলেন. “খোলামেলা আলোচনা হয়। ৫ আগস্টের সম্ভাব্য গণজমায়েত ও আন্দোলন মোকাবিলায় কৌশল ঠিক করা হয়।”

বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর অপারেশন কন্ট্রোল রুমে উচ্চপর্যায়ের আরেক বৈঠকে বসা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় ঢাকার প্রবেশপথে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং পুলিশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

চৌধুরী মামুন বলেন, ৫ আগস্ট সকাল ১০টা পর্যন্ত পুলিশ অবস্থান ধরে রেখেছিল। কিন্তু পরে দেখা যায় উত্তরা ও যাত্রাবাড়ি দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করছে। সেনাবাহিনী বাধা দেয়নি। বরং মাঠপর্যায়ের সেনা অফিসার ও সদস্যরা আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন।

তিনি আরও জানান, দুপুর ১টার মধ্যে ঢাকার ভেতরে লাখো মানুষের ঢল নামে, রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। তখন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (পিএমও) থেকে নির্দেশ আসে মহাখালী এলাকায় জনস্রোত ঠেকাতে। আমি তখন বুঝে যাই—সরকার আর টিকবে না। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে এসবির (বিশেষ শাখা) মাধ্যমে জানতে পারি, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা ছাড়বেন। তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা ভারত যাবেন কি না, তা সেনাবাহিনী জানায়নি।

৫ আগস্ট বিকেলে হেলিকপ্টারে করে তেজগাঁও বিমানবন্দর হয়ে তিনি সেনাবাহিনীর অফিসার্স মেসে আশ্রয় নেন বলে জানান মামুন।

জবানবন্দির শেষে চৌধুরী মামুন বলেন, “সরকারের নির্দেশে এবং কিছু অতিউৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে বলপ্রয়োগ, নির্বিচারে গুলি, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে জনআন্দোলন দমন করা হয়েছে। এতে বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন। সাবেক পুলিশ প্রধান হিসেবে আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী।”

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর