শতবর্ষের ঐতিহ্য আর আধ্যাত্মিক আবেগের এক অনন্য মেলবন্ধনে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমীতে হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো কুমারী পূজা। ভক্তদের বিশ্বাস—অজাত, নিষ্পাপ কন্যাশিশুর মধ্যেই দেবী দুর্গার শক্তির প্রতিফলন ঘটে। সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছরের মতো এবারও মিশন প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে ভক্ত-দর্শনার্থীর সমাগমে।
এ বছর কুমারী রূপে পূজিত হন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চিড়াকান্দি গ্রামের শিশু উৎসা চক্রবর্তী। বয়স মাত্র ৬ বছর ৮ মাস ১৯ দিন। শাস্ত্রীয় নিয়মে তাঁকে দেবী রূপে ‘মালিনী কুমারী’ নামে পূজা করা হয়। তাঁর পিতা উজ্জ্বল চক্রবর্তী ও মাতা ঋক্তা ভট্টাচার্য। পড়াশোনায়ও তিনি বেশ মনোযোগী—হবিগঞ্জের দি লার্নিং স্টার একাডেমির প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী উৎসা।
সকাল ১০টার দিকে পূজা শুরু হলে মণ্ডপে ঢল নামে হাজারো ভক্ত-দর্শনার্থীর। তখন দেবীরূপে সজ্জিত হয়ে আগমন করেন ছোট্ট উৎসা। পরনে লাল শাড়ি, হাতে শাঁখা, মাথায় ঝলমলে মুকুট, আর দু-হাতে সুভাসিত পুষ্প—এই রূপেই ভক্তদের সামনে আসীন হন তিনি। মুহূর্তেই চারপাশে ভক্তির আবহ ছড়িয়ে পড়ে। পূজা চলাকালে স্তব, মন্ত্রোচ্চারণ ও ধূপ-ধুনোর গন্ধে ভরে ওঠে মিশন প্রাঙ্গণ।
কুমারী পূজা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ ভিড় করেন। ভক্তদের অনেকে মনে করেন, কুমারী পূজার মাধ্যমে দেবীর শক্তির সান্নিধ্যে আসা যায় এবং অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে।
এদিকে, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের টহল ও প্রশাসনের তৎপরতায় অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
কেবল পূজার অনুষ্ঠান নয়, কুমারী পূজাকে ঘিরে একধরনের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবও তৈরি হয়। ভক্তরা এ দিনকে বিশেষ শুভদিন হিসেবে মনে করেন। তাঁদের বিশ্বাস, নিষ্পাপ কন্যাশিশুর মধ্যে প্রতিফলিত হয় মাতৃশক্তির অমলিন রূপ—যা ভক্তদের মনে জাগায় ভক্তি, আস্থা ও সাহসের নবতর প্রেরণা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.