রাত ১১ টা ,বিশাল গাড়ি বহরে এমপি এলেন প্রবাসীর বাড়িতে দাওয়াত খেতে। এরি সাথে সাথে মিডিয়ার ব্যাক্তিরাও হাজির। খাবারের আয়োজনকে সংবাদের শিরোনাম করলেন ” দলীয় কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভা”। কিন্তু এই শিরোনামের ভেতরে অনেক শিরোনাম থাকে যা প্রকাশিত হয়না। হলে সমস্যা হতে পারে বলে।
তবুও দু’একটি শিরোনাম লেখা যায়। ”প্রবাসীর পাশের বাড়ির সাথে দীর্ঘ দিনের শত্রুতা , নিজেকে ক্ষমতাবান দেখানোর জন্য এমপি’কে এনে দাওয়াত খাওয়ালেন ”। আসন্ন ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন প্রবাসী , তাই নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর চাইতে বড় নেতা জাহির করার জন্য রাতের দাওয়াত খাওয়ালেন এমপিকে ”।
ইত্যাদি ইত্যাদি শিরোনাম হতে পারে যা এমপিও বুঝেন । এরকম যে করে, সেও বুঝে। নেতা কর্মীরাও এসব ব্যাপারে জানে। কিন্তু একেবারে সাধারণ মানুষের কাছে এসব বিষয় তারা সমাজ সেবা এবং দলীয় কার্যক্রম হিসেবে চালিয়ে দেয়। শহরের মানুষ শিক্ষা ধিক্কায় এগুলেও মফস্বসলের মানুষ এখনো অনেকটা পিছিযে রয়েছে । সুবিধাবাদিদের সব কথা বুঝতে পারেনা।
আমরা যা শুনি , ব্যাক্তি থেকে দল বড় , দল থেকে দেশ বড়। কতটা মূখরোচক উক্তি। পাবলিক খুব সহজে মেনে নেয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। দল কিংবা দেশ থেকে ব্যাক্তিই বড়। দল কিংবা দেশের স্বার্থে যখন কোন নেতার ব্যাক্তিত্বে আঘাত লাগে , তখন দল থেকে বের হয়ে নিজে নিজে দল করে নেয়।যতক্ষণ নিজের স্বার্থ টিকটাক উদ্ধার করতে পারে ততক্ষণ আগে পিছে ঘুরে ।
নেতার পিছনে ঘুরতে থাকা কর্মীদের উদ্দেশ্য হলো ,অন্য সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন পাশের বাড়ির অমুক এই করেছে। এবার আমি তার বদলা নেবো। কেউ আছে পাশের বাড়ির সাথে পারিবারিক দ্বন্দ্বে মামলার আসামী , সে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে অপর পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য নেতার পিছে পিছে দৌড়ায়। নিজেকে নেতা হিসেবে জাহির করতে চায়।
এমনো কর্মী থাকে তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া বিবাদ চলছে , কোন রকম পেরে উটছে না । সে এবার নেতার পিছন ঘুরে নিজেকে নেতা বানিয়ে বউকে ঘায়েল করতে চাইছে। ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত রয়েছে । এক ভাই অপর ভাইকে দূর্বল করার জন্যও নেতার পিছনে দৌড়ায়। নেতাও জানেনা কর্মীরা তাকে কখন কিভাবে ব্যবহার করে।
এছাড়াও রয়েছে অনেক কর্মযজ্ঞ। ক্ষমতাধর নেতার পিছনে দলবদ্ধ ভাবে ঘুরাফেরা করে, নিজেদের দাপঠ দেখিয়ে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্টান থেকে কিছু একটা আদায় করে। প্রকৃতি রক্ষা করছে, এসব কিছু ধ্বংশ করে মানুষের কাছে বিক্রি করা। জামিদারি প্রথা না থাকলেও নিজেকে নিজের বাড়িতে নয়তো, আশেপাশে জমিদার হিসেবে প্রতিষ্টিত করাই মূল উদ্দেশ্য থাকে কর্মীদের।
নেতা যারা থাকেন তাদের এসব দেখার সময় নেই । তারা যে কোন ভাবে তাদের অবস্থান ঠিক করে নিতে পারলে কর্মীদের আর প্রয়োজন পড়েনা। নেতা যদি দল এবং দেশের জন্য রাজনীতি করে থাকেন, তাহলে কর্মীদের সর্ম্পকে জেনে নিতেন নিশ্চয়। সময় যত গড়াচ্ছে নিজেদের প্রয়োজনে দলে ভিড়ছে কর্মীরা । আর ঘুর ঘুর করছে নেতার পিছু পিছু।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.