সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হলে এর প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুরো উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার ৫ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুয়েব আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ সবুজকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিজ নিজ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের দাপ্তরিক দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ সবুজ জানান, শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে হরিপুর বাজার এলাকায় ছাত্রজনতার ব্যানারে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা অংশ নিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচিতে কোনো সহিংসতা কিংবা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের নেতারা একই দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, অথচ স্থানীয় পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই এমন সিদ্ধান্তকে তিনি সাংগঠনিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেন।
জামাল আহমেদ সবুজ জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সিলেট-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নজরে আনা হয়েছে। দ্রুত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বহিষ্কারের প্রতিবাদে এর আগের দিন শনিবার রাতে ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হরিপুর বাজার এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দেন।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার মাগরিবের পরে ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের উদ্যোগে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা উপজেলা ছাত্রদলের বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এম শাহীন আলমের অপসারণ দাবি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীরা তাকে খুঁজতে থাকেন। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নেতাকর্মীদের তীব্র চাপের মুখে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এম শাহীন আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জৈন্তাপুর উপজেলা জুড়ে সতর্ক অবস্থান বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.