আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় প্রথম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে মজা খাওয়ানো প্রলোভন দেখিয়ে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম তোফাজ্জল মিয়া (১৬)। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা বাদী আজমিরীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ইসলামি একাডেমির প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছালে অভিযুক্ত তোফাজ্জল মিয়া তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত প্রথমে মজা খাওয়ানোর প্রলোভন দিয়ে হরমুজ উল্লাহ'র বাড়ির পাশে জঙ্গলেনিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর মুখ চেপে ধরে এবং পরনের জামা-কাপড় খুলে ফেলতে চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে নেওয়া হয়।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও ভুক্তভোগীর পরিবার শালিশ বৈঠকে অভিযুক্তের স্বজনরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মারপিট করে এতে শালিস বৈটক পন্ডু হয়ে যায়।
ভিকটিমের চাচা জানান, তাঁর ৬ বছরের ভাতিজি মঙ্গলবার বিকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় তোফায়েল শিশুটিকে কৌশলে একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় মুরব্বিরা বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বৃহস্পতিবার রাতে শালিসে বসে। পর তোফায়েল ও তার স্বজনদের হামলায় শিশুটির বড় ভাই অনিকের দুইটি দাঁত ভেঙ্গে গেছে বর্তমানে সে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি আছে।
স্থানীয় মুরব্বি শানে আলম চৌধুরী ও মর্তুজ আলী জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শালিস বসি। শালিসের এক পর্যায়ে বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই অভিযুক্তদের স্বজন ও ভিকটিমেন স্বজনদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে শালিসি বৈঠক ভন্ডুল হয়ে যায়।
আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, ধর্ষনের চেস্টার অভিযোগ মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.