সহজ কিস্তি, স্বল্প মুনাফা আর দ্রুত ঋণের আশ্বাস, এই তিনটি কথায় বিশ্বাস করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের পাঠুলীপাড়া গ্রামের বহু নারী তাদের শেষ সম্বল তুলে দিয়েছিলেন ‘ঘণ এনজিও’র নামক প্রতারকের হাতে।
কিন্তু ঋণ তো দূরের কথা, জমা দেওয়া টাকাও ফেরত পাননি তারা। উল্টো প্রতারণার শিকার হয়ে আজ তারা আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় কয়েক মাস পূর্বে শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ গ্রামের ফজর আলীর পুত্র তৈয়ব আলী পাঠুলীপাড়া গ্রামে ঈমান আলীর বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ‘ঘণ এনজিও’ নামে অফিস খুলে কার্যক্রম শুরু করেন।
তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে নারীদের সহজ কিস্তিতে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য সংগ্রহ করেন।
প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকে প্রতি লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে ১১ হাজার টাকা করে সঞ্চয় নেয়া হয়। পাশাপাশি নেয়া হয় ব্যাংকের চেক বইয়ের একটি করে পাতা।
অনেক নারী ঋণের আশায় ধার-কর্জ করে, এমনকি কৃষি জমিতে দিনমজুরের কাজ করেও কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে এনজিওতে জমা দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই এনজিও বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শিরিনা বেগম দিয়েছেন ৩৫ হাজার, লিপি আক্তার ২২ হাজার, সুহেনা আক্তার ২০ হাজার, জবা বেগম ৩৫ হাজার, শেফালী ঘোষ ২০ হাজার, সুমা আক্তার ২২ হাজার টাকাসহ আরও অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী জবা বেগম বলেন, তিন লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে তৈয়ব আলী তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ও একটি ব্যাংক চেক নেন। একাধিকবার তারিখ দিয়েও কোনো ঋণ না দিয়ে পরে আর এলাকায় আসেননি তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক সদস্যকে ঋণ দেয়ার কথা বলে একাধিকবার বানিয়াচং উপজেলার এটিএম বুথে নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই টাকা দেয়া হয়নি। শুধু সময়ক্ষেপণ আর আশ্বাসই ছিল তাদের প্রাপ্তি।
প্রতারণার অভিযোগ যখন চরমে, ঠিক তখনই শনিবার দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার নতুন বাজারে ঘন এনজিওর কর্মকর্তা তৈয়ব আলীর অবস্থান শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী নারীরা। সেখান থেকে তাঁকে আটক করে। এসময় প্রতারক নারীদেরকে অকত্য ভাষায় গালাগাল করে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করে রশি দিয়ে বেঁধে পাঠুলীপাড়ায় নিয়ে আনার সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গাড়িটি উল্টে যায়। এতে কয়েকজন নারী গুরুতর আহত হন।
এসময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে ভূয়া ঘন এনজিও কর্মকর্তা প্রতারক তৈয়ব আলী পাঠুলীপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে গত দুই দিন ধরে ভুক্তভোগী ফরুক মিয়ার হেফাজতে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে তৈয়ব আলী দাবি করেন, তিনি জলসুখা এলাকায় ঋণ দেয়ার কথা বলে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ গ্রামের তিনজনের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন। তার দাবি, পাঠুলীপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী মুনালিছা বেগমের কাছে ওই টাকা সংরক্ষিত রয়েছে এবং ওই অফিসঘর তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
এদিখে মুনালিছা বেগম জানান, তিনিও এই এনজিওর সদস্য হয়ে ২২ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিয়েছেন ২ লাখ টাকা ঋণ নেয়ার জন্য। আমিও প্রতারনার শিকার। তাছাড়া তৈয়ব আলী আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে মিত্যা বলেছে।
আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, এবিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.