সিলেটের প্রাচীন প্রাগৈতিহাসিক জৈন্তিয়া রাজ্যের স্মৃতিবিজড়িত ও গৌরবোজ্জ্বল জনপদ জৈন্তাপুর উপজেলাকে অতিদ্রুত পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তরের দাবিতে এবার সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয় আপামর জনসাধারণ।
জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে হারুন আলীর নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম -প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে প্রেরিত এক বিশেষ আবেদনে এই প্রাণের দাবি তুলে ধরা হয়েছে যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় জৈন্তাপুর কেবল একটি উপজেলা নয় বরং এটি বাংলাদেশের পর্যটন ও ব্যবসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে এই অঞ্চলটি আর কেবল সাধারণ গ্রামীণ জনপদ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই বরং এখানে দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নগরায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অভাবনীয় প্রসার ঘটেছে যা একটি আধুনিক পৌরসভার দাবিকে অপরিহার্য করে তুলেছে।
বাস্তবায়ন পরিষদের নেতারা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন যে ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়ন সত্ত্বেও জৈন্তাপুর আজও একটি পৌরসভা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়া অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যা এই অঞ্চলের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। মন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ পৌরসভা বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবার মান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এছাড়া সুপরিকল্পিত নগরায়ন ও বিজ্ঞানসম্মত ড্রেনেজ সিস্টেম চালুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জৈন্তাপুরের সামগ্রিক শ্রী বৃদ্ধি পাবে যা সরাসরি সরকারের রাজস্ব আদায়ে বিশাল বড় ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে জৈন্তাপুরকে একটি মডেল টাউনে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছেন এলাকাবাসী এবং তারা বিশ্বাস করেন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই যৌক্তিক দাবিটি দ্রুত পূরণ হবে। এই অঞ্চলের গণমানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে উপজেলা সদরের নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পৌরসভা ঘোষণা করা হলে তা ইতিহাসের পাতায় একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এবং অবহেলিত এই জনপদ ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য ও আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.