হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সুনেশ্বর গ্রামে 'পুলিশ আসছে' শুনে আতঙ্কে দৌড় দিতে গিয়ে বকুল মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বকুল মিয়া ওই গ্রামের তুরুই মিয়ার ছেলে।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গ্রামে দুটি পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন আগে সুনেশ্বর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মারামারি হয়। ওই ঘটনায় এক পক্ষ বাদী হয়ে থানায় মামলা করায় এলাকায় গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার বিকেলে বকুল মিয়া যখন নিজের ঘরের চালে কাজ করছিলেন, তখন কে বা কারা চিৎকার করে বলে ওঠে পুলিশ আসছে!
আগের সংঘর্ষের মামলার কারণে গ্রেফতার আতঙ্কে বকুল মিয়া দ্রুত চাল থেকে নেমে দৌড় দেন। কিছুদূর দৌড়ানোর পরই তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বকুল মিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গ্রামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (স্ট্রোক করে) মারা গেছেন এবং ফেসবুকেও অনেকে একে স্ট্রোক হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে একটি পক্ষ এই মৃত্যুকে আগের মারামারির ঘটনার সাথে জড়িয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, হাসপাতাল সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন বকুল মিয়া বুকে ব্যথাজনিত কারণে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে লাশ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।
ওসি জাহিদুল হক আরও পরিষ্কার করেন আমরা শুনেছি পুলিশের আতঙ্কে তিনি দৌড় দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার সময় ওই স্থানে আসলে কোনো পুলিশ ছিল না। কে বা কারা পুলিশ আসছে বলে চিৎকার করায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে দৌড় দেন এবং সম্ভবত হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না।
গত দুই দিন ধরে গ্রামে সংঘর্ষ পরবর্তী উত্তজনা চলায় সেখানে নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ওসি জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় পুলিশ অবস্থান করবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.