আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাসা ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ পইরল গ্রামে নুরজাহান (২৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি নির্যাতনের পর হত্যা এ নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।
নিহত নুরজাহান ওই গ্রামের কাউছার মিয়ার স্ত্রী এবং এক কন্যা সন্তানের জননী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জের ধরে শুক্রবার গভীর রাতে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে নুরজাহান আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আইয়ূব আলী বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে নুরজাহান আত্মহত্যা করেছেন।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। নুরজাহানের পিতা এনাই উদ্দিন জানান, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে কাউছার মিয়ার সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হচ্ছিল। এক সপ্তাহ আগে ১ লাখ টাকা দাবিতে তাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে টাকা দেওয়ার আশ্বাসে তিন দিন আগে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়েকে মারধর করা হলে নুরজাহান ফোনে বিষয়টি তাকে জানান। পরদিন ভোরে খবর আসে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি জামাতাকে না পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এনাম উদ্দিন বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা মামলা করব।
আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।
ময়নাতদন্ত শেষে নুরজাহানে পিত্রালয় নবীগঞ্জের কানাইপুর গ্রামে মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.