অতিবৃষ্টির ছোবলে হবিগঞ্জের বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ধানি জমি এখন পানির নিচে। যে মাঠে ছিল সোনালি ধানের হাসি, আজ সেখানে কেবলই নীরবতা আর কৃষকের বুকফাটা হাহাকার। চোখের সামনে স্বপ্ন ডুবে যেতে দেখে অসহায় হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
শুধু ফসলই নয়—ভেঙে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, নিশ্চিহ্ন হয়েছে অসংখ্য দরিদ্র মানুষের বসতঘর। এক মুহূর্তেই অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের শেষ আশ্রয়টুকু। দুর্যোগ যেন কেড়ে নিয়েছে জীবনের সব স্বস্তি।
এই ভয়াবহ বাস্তবতার চিত্র জাতীয় সংসদের মঞ্চে তুলে ধরে তীব্র ও আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) কার্যপ্রণালি বিধি ৭১-এ দাঁড়িয়ে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর প্রতি সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ডা. জীবন এমপি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ মূলত কৃষিনির্ভর। সেই কৃষকেরাই আজ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। অতি বৃষ্টিতে তাদের সারা বছরের পরিশ্রম নিমিষেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। আর যাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।”
তিনি ক্ষোভ ও বেদনার সাথে আরও বলেন, “এই মানুষগুলো রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে আছে। এখনই যদি তাদের পাশে দাঁড়ানো না হয়, তাহলে তারা চরম দুর্দশায় পড়ে যাবে।”
এসময় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত, কার্যকর ও পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানান।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “এটা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়—এটা আমাদের জীবনের অস্তিত্বের সংকট।” তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেরি হলে এই ক্ষতি আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.