মো. মতিউর রহমান:- মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনটা ছিল নাটকীয়তায় ভরা। দিনের শুরুতে দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দারুণ জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। তবে দিনের বড় অংশ কেড়ে নেয় বৃষ্টি ও খারাপ আলো।
শেষ পর্যন্ত আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫২ রান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৩৮৬ রানের বিপরীতে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ১৭৯ রানে।
তৃতীয় দিনের শেষে ৭ রানে অপরাজিত থেকে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল বড় লিড গড়া।
কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খায় দল। ষষ্ঠ ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হন মাহমুদুল হাসান জয়। রিভিউ নিলেও আম্পায়ার্স কলে বাঁচতে পারেননি তিনি। ২৬ বলে ৫ রান করে ফেরেন ওপেনার।
১১তম ওভারে আসে আরও বড় ধাক্কা। হাসান আলির বাড়তি বাউন্সে সাদমান ইসলাম বিদায় নেন। ২৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে তখন চাপে বাংলাদেশ।
সেখান থেকেই শুরু প্রতিরোধ। মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস গড়তে থাকেন। ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে রান তুলেছেন দুজন। ২৮তম ওভারে জুটি পঞ্চাশ ছোঁয়। বাংলাদেশের লিড তখন একশ ছাড়িয়ে যায়। পাকিস্তানি বোলাররা চাপ তৈরি করলেও দুই ব্যাটসম্যান দৃঢ়তায় তা সামাল দেন।
লাঞ্চের পরপরই নামে বৃষ্টি। কালো মেঘে ঢেকে যায় মিরপুর। একসময় তুমুল বর্ষণে দ্বিতীয় সেশনের বড় অংশ নষ্ট হয়। মাঠে জমে যায় পানি। যদিও মিরপুর স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টি থামার পর দ্রুত মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা পর তৃতীয় সেশনে আবার খেলা শুরু হয়। বিরতির পরও মনোযোগ হারাননি মুমিনুল ও শান্ত।
৩৪তম ওভারে দলীয় একশ পূর্ণ হয়। এরপর নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন মুমিনুল। এই ফিফটির মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলকেও পৌঁছে যান তিনি। অন্যদিকে শান্তও সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান ফিফটির দিকে।
৪০তম ওভারে দুজন মিলে গড়েন শতরানের জুটি। প্রথম ইনিংসেও তারা শতরানের জুটি গড়েছিলেন। তবে ৪৩তম ওভারে এসে ভাঙে এই প্রতিরোধ। শাহিন শাহ আফ্রিদির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন মুমিনুল। ১২০ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি। একই ওভারে ৯০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দিনের শেষ ভাগে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে এগিয়ে নেন দলকে।
তবে সন্ধ্যার দিকে কমতে থাকে আলো। শেষ পর্যন্ত আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। বাংলাদেশের হাতে এখনো রয়েছে ৭ উইকেট, লিড ১৭৯ রান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.