আজমিরীগঞ্জে এক হাঁস খামারির ৩১১টি হাঁস আত্মসাৎ, হামলা, হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক মেম্বার সাত্তার মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই মামলায় তাঁর ছেলে নাঈম মিয়া, অনিক মিয়া ও পলাশ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজমিরগঞ্জ থানায় গত ৩১ জুলাই দায়ের হওয়া মামলায় এ অভিযোগ আনেন এক নস্বর সদর ইউনিয়নের রনিয়া গ্রামের বাসিন্ধা উপেন্দ্র দাস।
মামলার উল্লেখ করেন, তাঁর খামারে ৩১১টি হাঁস ছিল, যা তিনি বাড়ির পাশের রনিয়া হাওরে ছেড়ে পালন করতেন। গত ১৯ জুলাই বিকেলে তাঁর হাঁসগুলো সাত্তার মিয়ার হাঁসের পালের সঙ্গে মিশে যায়। এ সুযোগে সাত্তার মিয়া, তাঁর ছেলে নাঈম, অনিক ও পলাশ পরস্পরের যোগসাজশে হাঁসগুলো নিজেদের খামারে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, পরে সাত্তার মিয়া হাঁস ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরদিন ২০৩টি হাঁস নিজে থেকেই বাদীর খামারে ফিরে আসে। অবশিষ্ট ১০৮টি হাঁস অভিযুক্তরা আটকে রাখেন। পরে বাদীর খামার থেকে আরও ছয়টি বড় হাঁস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এতে মোট ১১৪টি হাঁস অভিযুক্তদের দখলে থেকে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে ২৫ জুলাই একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্তরা হাঁস ফেরত দিতে সম্মত হলেও ২৬ জুলাই সকালে সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বাদীর খামারের সব ৩১১টি হাঁস, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, জোরপূর্বক নিজেদের খামারে নিয়ে যান।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান না হওয়ায় বাদী বিভিন্ন জনের স্বরনাপন্ন হলে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি ও গালিগালাজ করেন।
এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে আজমিরগঞ্জ চরবাজারের জুবায়ের হোটেলের সামনে সাত্তা মিয়াসহ অন্যরা বাদী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পথরোধ করে এবং সাত্তার মিয়ার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাহার আলী নামে একজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করেন। অন্য আসামিরা ধাওয়া করলে তাঁরা দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে স্থানীয়রা আহত বাহার আলীকে উদ্ধার করে আজমিরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলায় মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য সাত্তার মিয়া ইতিপূর্বে আর একজন সুভাষ শীল নামের লোককে মেরে হাত ভেঙ্গে ফেলে।
আজমিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সত্তার মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে আইন আনুক প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়, বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.