ফল বিক্রেতার মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আজমিরীগঞ্জ থানার এসআই রাসেল মিয়াকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এর আগে রাজধানী ঢাকার সাভার থানা থেকে প্রত্যাহার হয়েছিলেন অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের ব্যাখ্যা দিতে না পেরে। তাকে নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।
মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠার পর গতকাল সোমবার আজমিরীগঞ্জ থানা থেকে তাকে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন।
গত শনিবার রাত ৮টা ৪৯ মিনিটের দিকে আজমিরীগঞ্জ বাজারের রাজিব আহমেদের ফলের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভির ফুটেজে এসআই রাসেল মিয়াকে দোকানে প্রবেশ করে পেয়ারা ও লটকন কিনতে দেখা যায়।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, শনিবার রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে আজমিরীগঞ্জ বাজারের রাজিব মিয়ার ফলের দোকানে ঢোকেন এসআই রাসেল। তিনি পেয়ারা ও লটকন কেনেন। এ সময় দোকানের টেবিলের ওপর রাজিবের কালো রঙের স্মার্টফোনটি রাখা ছিল। দোকানে তেমন ভিড় ছিল না। অল্প কিছু ফল কেনার পরও কয়েক মিনিট দোকানে অবস্থান করেন রাসেল। একপর্যায়ে দোকানি ফলের ব্যাগ তৈরি করে রাখলেও তিনি দাঁড়িয়ে থেকে তার সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এ সময় হাতে থাকা একটি ফাইল ও নিজের মোবাইল ফোনটি দোকানির ফোনের ওপর রাখেন। পরে কথা বলতে বলতেই দুটি ফোনই নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নেন। ফলের ব্যাগ হাতে নিয়ে আরও প্রায় এক মিনিট কথা বলার পর দোকান থেকে বের হয়ে যান তিনি।
কিছুক্ষণ পর নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন রাজিব। ফুটেজে এসআই রাসেলকে ফোনটি নিয়ে যেতে দেখে তিনি তার কাছে ফোনটি ফেরত চান। তবে রাসেল প্রথমে ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে গভীর রাতে ফোনটি ফেরত না দিয়ে রাজিবকে ১৫ হাজার টাকা দেন।
রাজিবের দাবি, তিনি এসআই রাসেলের কাছে মোবাইল ফোনটি ফেরত চান। তবে রাসেল প্রথমে ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকারকরেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে গভীর রাতে মোবাইলটি ফেরত না দিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে এসআই রাসেলের গতিবিধি দেখে তাদের মনে হয়েছে, তিনি পরিকল্পিতভাবে কিছু সময় দোকানে অবস্থান করে পরে মোবাইলটি নিয়ে যান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এসআই রাসেল মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন বলেন, ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর গতকাল সোমবার তাকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এদিকে, এ ঘটনা জানাজানির পর গতকাল সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদকে আজমিরীগঞ্জ থানায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ ভেতরে অবস্থান করে তিনি ফিরে আসেন। তবে কি উদ্দেশ্যে জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তার হঠাৎ আজমিরীগঞ্জ সফর তা জানা যায়নি।
হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসআই রাসেলের কর্মকাণ্ডে ত্যক্ত-বিরক্ত। গত ছয়মাসে একাধিক স্থানে বদলী হয়েছে তার। এর আগে ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট একটি অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল রাজধানী ঢাকার সাভার থানা থেকে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.