1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান Md. Motiur Rahman’s travel permit to the United Arab Emirates শান্তিগঞ্জে সবার জন্য প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় উদ্বোধন

মাদকমুক্ত জৈন্তাপুর এখনই চাই সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধঃ-আব্দুল গাফফার চৌধুরী খসরু

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০১ বার পঠিত

 

সীমান্তবর্তী উপজেলা সিলেটের জৈন্তাপুরে মাদকের বিস্তার দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মাদক এখন আর কেবল কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট। এই বাস্তবতায় মাদকমুক্ত জৈন্তাপুর গড়তে প্রয়োজন দল-মত, শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ।

নিউইয়র্কপ্রবাসী সমাজসেবী আব্দুল গাফফার চৌধুরী খসরুর সাম্প্রতিক আহ্বানটি তাই সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শুধু মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান নয়, মাদকের চাহিদা কমানো এবং আসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

জৈন্তাপুরের ভৌগোলিক অবস্থান মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু সীমান্তবর্তী হওয়া কখনোই মাদক বিস্তারের অজুহাত হতে পারে না। সীমান্তে নজরদারি, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ।

মাদকের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে পরিবারে। একজন মানুষ মাদকাসক্ত হলে শুধু তার নিজের জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; ভেঙে পড়ে পারিবারিক শান্তি, নষ্ট হয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, তৈরি হয় সহিংসতা ও অপরাধের ঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবারের শিশু-কিশোররা। তাদের নিরাপদ শৈশব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

সম্প্রতি জৈন্তাপুরের নিজপাটে মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে এক গৃহবধূ নিহত হওয়ার ঘটনা মাদকের ভয়াবহতার নির্মম বাস্তবতা সামনে এনেছে। একজন নারীর মৃত্যু, কয়েকটি শিশুর মাতৃহারা হওয়া এবং একটি পরিবারের বিপর্যয় এসব ঘটনা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। মাদককে তাই কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে সামাজিক ও মানবিক সংকট হিসেবেও মোকাবিলা করতে হবে।

এই সংকট মোকাবিলায় প্রথম দায়িত্ব পরিবারের। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হচ্ছে কি না, অভিভাবকদের এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

মসজিদ-মাদরাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ক্রীড়া সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে মাদকের প্রতি তাদের ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আসক্তদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ একজন আসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা মানে শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবারকেও রক্ষা করা।

আব্দুল গাফফার চৌধুরী খসরুর আহ্বানের মূল বার্তাটি তাই অত্যন্ত পরিষ্কার- মাদকমুক্ত জৈন্তাপুর কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এটি সবার দায়িত্ব। প্রশাসনের অভিযান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, পরিবারের নজরদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সচেতনতা এবং সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ—সবকিছুর সমন্বয়েই তৈরি হতে পারে একটি নিরাপদ জৈন্তাপুর।

আজ যদি আমরা মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান না নিই, আগামী প্রজন্মকে এর মূল্য দিতে হবে। আর আজ যদি একটি পরিবার তার সন্তানকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পারে, একটি তরুণকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে কিংবা একটি মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ককে প্রতিহত করতে পারে তাহলেই এই সামাজিক আন্দোলনের সার্থকতা।

মাদকমুক্ত জৈন্তাপুর কোনো স্লোগান নয়; এটি আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিরোধ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর