হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ, বহুলা গ্রামের কৃতী সন্তান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ চৌধুরী বি.এ. মজহার উদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স কত ছিল, তা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
চৌধুরী বি.এ. মজহার উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে সরকারি বৃন্দাবন কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি একই কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি মাধবপুরের সৈয়দ উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনে মজহার উদ্দিন অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর বড় ছেলে চৌধুরী মোরতাইন বিল্লাহ জুয়েল ব্যাংকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী। দ্বিতীয় ছেলে ডা. চৌধুরী ওমর ফারুক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক। তৃতীয় ছেলে ড. জাবের সাদেক সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি)। ছোট ছেলে চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া সিটি ব্যাংকের ছাতক শাখার ব্যবস্থাপক। একমাত্র মেয়ে চৌধুরী মোতাহারা বেগম জেরিন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ঢাকায় বসবাস করছেন।
মরহুমের জানাজার নামাজ রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টায় হবিগঞ্জের বহুলা গ্রামের মিয়া বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।
চৌধুরী বি.এ. মজহার উদ্দিনের মৃত্যুতে তাঁর সাবেক সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে শোকাহতরা উল্লেখ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.