1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান শান্তিগঞ্জে সবার জন্য প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় উদ্বোধন লাখাইয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

জৈন্তাপুরে খালিদা-সুমনসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৮ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সৌদি আরবে পাঠানো হয় আব্দুর রহমানকে। সেখানে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুত চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে দেশে তার পরিবারের কাছে দাবি করা হয় ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল মুক্তিপণ—এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। এ ঘটনায় আব্দুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেটের আদালতে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের তীর সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল পূর্ব বালিদাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান, তার মেয়ে খালিদা বেগম, ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকার বাসিন্দা ও সৌদি আরব প্রবাসী আহসান হাবিব সুমনের দিকে।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, গৃহকর্মী ভিসাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসায় উচ্চ বেতন, ভালো চাকরি ও নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে নারী-পুরুষদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর অনেকেই প্রতিশ্রুত সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে বিপাকে পড়েন। কেউ কেউ নির্যাতন, আটকে রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ দাবির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আদালতে অভিযোগ আব্দুল নূরের

চারিকাটা ইউনিয়নের সরুখেল পশ্চিম গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল নূর বাদী হয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে আব্দুল মান্নান, তার মেয়ে খালিদা বেগম, ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও আহসান হাবিব সুমনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর আত্মীয় হওয়ায় তাদের মাধ্যমে আব্দুল নূরের ছেলে আব্দুর রহমানকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে মাসিক বেতনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয় বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, সৌদি আরবে আব্দুর রহমানকে একটি ঘরে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‘চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিয়ে নির্যাতন’

চারিকাটা ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের ছেলে মাহদিকুর রহমানকেও সৌদি আরবে নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, সেখানে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকও হয়। পরে প্রায় তিন মাস পর স্থানীয় এক প্রবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে বিদেশে থাকা প্রবাসীদের জিম্মি করে ভিডিও ধারণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ওই ভিডিও ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনেননি বলেও দাবি তাদের।

‘মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে’

বিদেশে পাঠানোর অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যক্তি ও প্রবাসীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ২০২৫ সালে এক প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়নি বলে তারা দাবি করেন। তবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের নথি যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

মাসুক আহমদের অভিযোগ

নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মাসুক আহমদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, বিদেশে পাঠানোর একটি প্রস্তাবে তিনি আপত্তি জানানোর পর তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলা করা হয়।

এ ঘটনায় মাসুক আহমদ ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর আব্দুল মান্নান, খালিদা বেগম ও আহসান হাবিব সুমনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা গেছে। মামলাটির নম্বর ২৮০/২০২৫।

মাসুক আহমদের পক্ষের অভিযোগ, তার পরিবারের সদস্যকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে তিনি সম্মতি না দেওয়ায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে মামলা দিয়ে তাকে চাপের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রুমানার অভিযোগেও বিদেশ পাঠানোর চাপ

নয়াখেল পূর্ব গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে রুমানা বেগমও একই পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। চলতি বছরের ২১ জুলাই তিনি সিলেট জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর আলম, খালিদা বেগমসহ পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন বলে জানা গেছে।

রুমানার অভিযোগ, জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হলেও কাবিননামা করা হয়নি। কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন জাহাঙ্গীরের পূর্বে আরও দুই স্ত্রী রয়েছে। এরপর খালিদা বেগমের সহযোগিতায় তাকে মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুমানা আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে যেতে রাজি না হওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পরে জাহাঙ্গীর আলম তাকে তালাক দেন।

স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ

স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে চারিকাটা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি এবং চতুল বাজারের ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। তবে এসব সালিশের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ গ্রহণ, প্রতারণা, প্রবাসীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে যাতে আর কেউ প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান ও খালিদা বেগমের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আহসান হাবিব সুমনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

তবে আদালতে অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও আদালত।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর