বানিয়াচংয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অপহরণ রহস্যের অবসান হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে জুয়েল মিয়া (৩৫) নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত গভীর রাতে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা গ্রামের খান বাড়ির বাসভবন থেকে নিখোঁজ হন জুয়েল মিয়া। তিনি একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মোশাহিদ মিয়ার ছেলে। প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে তিনি খান বাড়ির বাসভবন ও সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
জুয়েলের নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী রুবি আক্তার বানিয়াচং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হকের নির্দেশনায় এসআই জিয়াউল রহমান বানির নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জুয়েলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মৌলভীবাজার থানা পুলিশের সহযোগিতায় শহরের কুসুমবাগ এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধারের সময় হোটেলের কক্ষে স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায় জুয়েলকে। প্রাথমিকভাবে তিনি দাবি করেন, অপহরণকারীরা তাঁর হাত-পা ও চোখের বাঁধন খুলে দিয়ে চলে গেছে। তবে পরবর্তী সময়ে বানিয়াচং থানায় স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই অপহরণের ঘটনা সাজানোর কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল জানান, পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই তিনি এ কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। এ ঘটনায় ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সামনে এলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অপহরণের কোনো বাস্তব ঘটনা ছিল না বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে। পরে পুলিশ তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
এদিকে, অল্প সময়ের মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করায় বানিয়াচং থানা পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন জুয়েলের স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পুলিশের ভূমিকার প্রতি সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল মিয়া স্বীকার করেছেন, পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি সাজানো হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অপহরণের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। পরে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একটি অপহরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির খবর এলাকায় আতঙ্ক ছড়ালেও প্রকৃত ঘটনা সামনে আসার পর সেই উদ্বেগের অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে এ ধরনের সাজানো ঘটনা পরিবার ও স্বজনদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল্যবান সময় ও জনবল ব্যয়ের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো. মতিউর রহমান
মোবাইল : ০১৭১০-৯০৪৮৬০
Copyright © 2026 দৈনিক প্রথম সিলেট. All rights reserved.