1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান Md. Motiur Rahman’s travel permit to the United Arab Emirates শান্তিগঞ্জে সবার জন্য প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় উদ্বোধন

বানিয়াচংয়ে বেহাল দশায় সড়ক— জনদুর্ভোগে নিত্যদিনের যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৫৯ বার পঠিত

বানিয়াচং উপজেলা সদরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গ্যানিংগঞ্জ বাজার থেকে পাঁচ/ছয় নং বাজারের সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ ও সুফিয়া মতিন টেকনিক্যাল স্কুল পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এখন পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের যাত্রাপথ।

প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, প্রসূতি মা, বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে সড়কের চেহারা এমন হয় যে, চলাচল রীতিমতো যুদ্ধসম।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গর্ত, খানাখন্দ আর জমে থাকা পানিতে পথ যেন পথ নয়, একেকটা কষ্টের ধাঁধা। ছোট যানবাহন—ভ্যান, মিশুক, সিএনজি, অটোরিকশা ও ইজিবাইক—ভীষণ কষ্ট করে যাতায়াত করলেও প্রায়ই সেগুলো গর্তে আটকে যায় বা উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পায়ে হেঁটে চলতে হয় এই ভাঙা পথে। অনেক সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে তারা আহত হচ্ছেন; ইউনিফর্ম ভিজে যাচ্ছে কাদায়। নষ্ট হচ্ছে বই খাতাও অন্যান্য উপকরণ।

স্থানীয়দের ভাষ্যে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের উপেক্ষার প্রতিচ্ছবি। তাদের অভিযোগ—শুধু বর্ষা নয়, বছরের অন্য সময়েও সড়কটির অবস্থা একই রকম খারাপ থাকে। পথের বুকে অসংখ্য গর্ত, ইটসলিংয়ের ভেঙে যাওয়ায় খানাখন্দে আর কর্দমাক্ত পরিবেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

যাত্রীবাহী গাড়িগুলো প্রায়ই উল্টে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় যানবাহন ও যাত্রী। যদিও চালকদের জন্য বিকল্প রাস্তা রয়েছে, তবে পায়ে হেঁটে চলা সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সে সুযোগ নেই।

স্থানীয় ইজিবাইক চালক আ. ছামাদ রাফি বলেন, “এই রাস্তায় চলা মানে যেন প্রতিদিন মৃত্যুর আশঙ্কা বুকে নিয়ে যাত্রা করা। গর্ত আর পানিতে গাড়ি কখন আটকে পড়ে, বলা মুশকিল।”

পথচারীরা জানান, রাস্তার করুণ দশার কারণে গুরুতর রোগী, বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঝাঁকুনিতে রোগীরা কষ্ট পায়, কখনো কখনো আরও গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

মিশুক চালক আলমগীর মিয়া বলেন, “এই ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চলাফেরা করাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার সময় ঝাঁকুনিতে তারা ভোগান্তির শিকার হন। এমনকি রাস্তায় সন্তান প্রসব হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বৃদ্ধ যাত্রীরা ঝাঁকুনির কারণে কোমরে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় পড়েন।

এছাড়া প্রতিনিয়ত মিশুক ও অন্যান্য যানবাহন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে মেরামতে। এক কথায়, এই রাস্তায় চলাচল এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাহেল মিয়া জানান, “রাস্তাঘাট ভাঙা থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, এতে বিক্রিতে প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। রোজ সকালে কাদা ভাঙিয়ে স্কুলে পৌঁছানো তাদের নিত্যদিনের লড়াই।”

একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের স্কুলে যাওয়া মানেই যেন প্রতিদিন যুদ্ধ করা। রাস্তায় একটু অসতর্ক হলেই পড়ে যাই। আমরা চাই, অবিলম্বে এই রাস্তা সংস্কার হোক।”

এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোহেল হোসাইন বলেন, “গ্যানিংগঞ্জ বাজার থেকে সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর