1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি নেতা সাজলের আকস্মিক মৃত্যুতে এমপি কয়ছর আহমদ সহ বিভিন্ন মহলের শোক শ্রীমঙ্গলে দস্যুতার মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান

হাফপ্যান্টের আধুনিকতা না অশালীনতা?

আব্দাল মিয়া (হবিগঞ্জ)
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৮২ বার পঠিত

 

বানিয়াচংয়ে তরুণদের পোশাক বিতর্কে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি, মেয়েদের অস্বস্তি ও সমাজের উদ্বেগ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ব্যস্ত বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা গ্রামীণ সড়ক—যেখানেই চোখ যায়, দেখা মিলছে হাফপ্যান্ট পরা তরুণদের। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায়, কেউ আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকছে। গরম কিংবা আরাম নয়—অনেকে এটিকে আজকাল “স্টাইল” বা “আধুনিকতার” প্রতীক ভাবছে।
কিন্তু এই পোশাকের প্রদর্শনীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র সমালোচনা। স্থানীয় প্রবীণ, আলেম ও অভিভাবকরা বলছেন, এটি সামাজিক শালীনতা ও সংস্কৃতির পরিপন্থী। মেয়েদের বড় একটি অংশও এ নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

গ্যানিংগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা শায়খ মখলিছুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য ফরজ। জনসম্মুখে হাফপ্যান্ট পরে চলাফেরা ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তরুণদের এই প্রবণতা নিরুৎসাহিত করতে প্রত্যেক অভিভাবক সচেতন হওয়া জরুরি।”

নাম না বলে শর্তে হাফপ্যান্ট পরে বন্ধুদের সঙ্গে বাজারে ঘুরতে আসা এক কলেজপড়ুয়া তরুণের ভাষ্য, “গরমে এটা পরতে সুবিধা হয়, আর দেখতে স্মার্ট লাগে। বিদেশি সিনেমা আর ফেসবুকে দেখেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এতে দোষ কোথায়?”
তবে তার এই বক্তব্য অনেকের চোখে হালকা মনে হলেও সমাজে যে অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে, তা অনুধাবন করছেন না তিনি।

একজন কলেজছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা পড়াশোনার জন্য ক্লাসে যাই। কিন্তু বাইরে কিছু ছেলে হাফপ্যান্ট পরে দাঁড়িয়ে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। এতে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়, মনে ভয়ও তৈরি হয়।”
আরেকজন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী বলেন, “ফ্যাশনের নামে কেউ যদি আমাদের দিকে তাকিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে, সেটা কেবল বিরক্তিকরই নয়, আমাদের মানসিক চাপও বাড়ায়।”

স্থানীয় এক অভিভাবক আফসোস করে বলেন, “আমরা চাই সন্তানরা পড়াশোনায় মনোযোগী হোক। কিন্তু তারা ফ্যাশন নিয়ে বেশি ব্যস্ত। পরিবার থেকে যদি পোশাকের বিষয়ে সচেতন করা না যায়, তাহলে এ প্রবণতা আরও বাড়বে।” তিনি আরও বলেন,“বাইরে বের হলে শুধু ছেলেরা নয়, মেয়েরাও অস্বস্তিতে পড়ে। এটা সামাজিক অশান্তি বাড়াচ্ছে।”

সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির প্রভাবে তরুণদের পোশাক ও মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এক শ্রেণির তরুণ মনে করছে, হাফপ্যান্ট পরে ঘোরা মানেই আধুনিকতা। অথচ বাস্তবে তারা ইসলামী মূল্যবোধ ও সামাজিক শালীনতার গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছে। কিশোর ও তরুণদের অনেকেই আলাদা করে নজরে আসার জন্য কিংবা মেয়েদের আকৃষ্ট করার মানসিকতা থেকেই হাফপ্যান্ট বেছে নিচ্ছে। কিন্তু এই স্বল্পমেয়াদি আনন্দ দীর্ঘমেয়াদে তাদের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বানিয়াচংয়ের ঘটনা সামগ্রিক সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। পোশাকের নামে তরুণদের অশালীনতা কেবল বাজার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে অস্বস্তিকর করছে না, বরং সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের পথও খুলে দিচ্ছে।
সচেতন মহল বলছেন, আধুনিকতা মানেই অনিয়ন্ত্রিত পোশাক নয়। ইসলামী মূল্যবোধ ও সামাজিক রীতিনীতি মেনে চললে তরুণ প্রজন্ম যেমন সঠিকভাবে বেড়ে উঠবে, তেমনি সমাজও আরও সুন্দর, শালীন ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর