1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান Md. Motiur Rahman’s travel permit to the United Arab Emirates শান্তিগঞ্জে সবার জন্য প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় উদ্বোধন

স্বামীর সম্পত্তি অধিকার না পাওয়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন প্রতিবন্ধী রহিমা

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫৮ বার পঠিত

স্বামীর সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ফিরছেন এক বিধবা স্ত্রী। শনিবার (১ আগস্ট) প্রতিবন্ধী রহিমা বেগম ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন শহরের ৩ সন্তানের জননী রহিমা বেগম।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের সুরভী আবাসিক এলাকার প্রতিবন্ধী রহিমা বেগম কেঁদে কেঁদে  অভিযোগ করেন স্বামীর মৃত্যুর পর প্রথম স্ত্রীর ছেলেরা তাকে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি জানান, ২০০৫ইং সালে শহরের সুইনগড় এলাকার হাজি ইয়াকুব আলী খাঁন এর সাথে ইসলামী রীতিতে বিবাহ হয়। বিয়ের সময় আমার স্বামীর আরো ২ স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ৩ছেলে ২ মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ২ কন্যা সন্তান রয়েছে।

বিবাহের পর আমার স্বামী শহরের সুরভীপাড়া এলাকায় ৪ শতক জমির উপর ক্রয় করা একটি বাসায় ঘর সংসার করে আসছিলেন। ২০১৪ সালের মে মাসে তিনি মারা যান। বর্তমানে আমার ২ ছেলে ১ মেয়ে রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আমাকে মাসিক ৫ হাজার টাকা দেয়ার জন্য স্বামীর প্রথম স্ত্রীর ছেলে মনজুর আলী খাঁনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০২৩ সালে সেই টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। এরিমধ্যে গত রমজান মাসে আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীর মেজো ছেলে মনজুর আলী খাঁন মারা যায়।

সম্প্রতি জানতে পারি স্বামীর প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে জুনাব আলী খাঁন ও ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খাঁন আমার সন্তানদের তার পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এফিডেভিট করে একটি ওয়ারিশ নামা তৈরী করেছে। এনিয়ে গত ৩১ মে সকালে আমার বড় ছেলে রাশেদ আলী খাঁন তার সৎ ভাইদের বাসায় যায়। এসময় জুনাব আলী খাঁন ও ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খাঁন আমার ছেলেদের ভাই হিসেবে অস্বীকার করে। এনিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি এবং আমার ছেলেকে মারতে উদ্বত্ব হয়। এসময় তারা আমরা সম্পদ কেমনে নেই তা দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়।

একই দিন সন্ধ্যায় শহরে যাবার পথে জুনাব আলী খাঁন, সাহাদত আলী খাঁন, ভাইয়ের ছেলে ইমন ও জীবন আমাদের মারধর ও হুমকি প্রদান করে।

এ ঘটনা আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। এছাড়া আমাদের সম্পত্তির বৈধ দাবী নিয়ে আরো দুইটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বিয়ের রেজিষ্ট্রি কাবিন না থাকার সুযোগে প্রথম পক্ষের ছেলেরা আমার সন্তানদের তাদের পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। হাজী ইয়াকুব আলী খাঁন আমার স্বামী ছিলেন- এর স্বপক্ষে অনেক প্রমান রয়েছে। শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, টীকা কার্ড, পৌরসভার নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারী কাগজপত্রে স্বামীর নাম রয়েছে।

রহিমা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ২০০৫ সালে স্বামীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে আমার প্রথম পক্ষের ছেলেরা ৮০ লক্ষ টাকা আত্বসাত করে। এ ঘটনায় আমার স্বামী ২০০৫ সালে তিন ছেলেকে ত্যাজ্য করেন। অথচ তারাই আজ আমার এতিম সন্তানদের হক কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী। অনেক কষ্ট করে ছেলে মেয়েদের নিয়ে জীবন নির্বাহ করছি। স্বামীর সম্পত্তির উপর আমার কোন লোভ নেই। কিন্তু পিতার সম্পত্তির উপর এতিম ছেলে-মেয়েদের হক রয়েছে। অথচ প্রথম পক্ষের ছেলেরা সেই হক থেকে আমার সন্তানদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াকুব আলী খাঁন এর প্রথম স্ত্র ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খাঁন প্রথমে রহিমা বেগম তার বাবার স্ত্রী বলে অস্বীকৃতি জানালেও এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘রহিমা বেগতৎম সত্যি যদি আমার বাবার স্ত্রী হয়ে থাকেন তাহলে আমাদেও কাছে আসুক, আমরা পারিবারিক ভাবে বিষয়টা দেখে দেবো।’

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর