হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মাহবুবুল ইসলাম যোগদান করার পর থেকেই খুব সহজেই সাধারণ জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাকে পেয়ে সাধারণ মানুষ তাদের আস্থার নতুন ঠিকানা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন।

যেখানে বছরের পর বছর জমির কাগজপত্র, দালালচক্র আর লোকসানের ভয়ে অনেকেই তাদের নিজের জমি হলেও সেটার দিকে ফিরতে পারেননি। এমনই একজন ছিলেন আক্কাস মিয়া (ছদ্মনাম) — কাগজে তিনি ছিলেন সম্পত্তির একমাত্র মালিক, কিন্তু বহুসংঘর্ষ ও দখলদারের হুমকিতে জমিতে তার লাঙলই লাগেনি। বছর কাটে, আশা হারায় আত্মবিশ্বাস।

আর সেই অচল কাহিনিই বদলে দেন বাহুবলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুল ইসলাম। তিনি নিজে সরাসরি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে বসেন, জমির সীমা পরিমাপ করান এবং খোলাখুলি দখলের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন — যাতে কোনো পক্ষ দ্বন্দ্ব করার সুযোগ না পায়। অফিসি কাগজপত্র না নিয়ে, মাঠেই বসে যে বিশ্বাস জাগে, সেটা ছিলই আলাদা। ফলাফল হৃদয় ছুঁয়ে যায়: পাঁচ বছর পর সেই জমিতে আবারও লাঙল মাটি স্পর্শ করলো। আক্কাস মিয়ার চোখে তখন নামল অশ্রু; তিনি বললেন—“এখন যে লাঙল ঘুষি মারে, সেটাই আমার সংসারের ভরণ-পোষণ। অফিস থেকে এসে ওরা যা করে গেল—আমার জীবনে নতুন এক সকাল নেমে এসেছে।”

এসব ব্যক্তিগত রুপান্তর বাহুবলে আজ নানান মানুষের জীবনে দেখার মতো। নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ দিনের মধ্যে নামজারি করার বিধান থাকলেও মো. মাহবুবুল ইসলামের দফতরে গড়ে ১৬–১৮ দিনের মধ্যেই নামজারি সম্পন্ন হচ্ছে। কর্মচারী সংকট থাকা সত্ত্বেও দ্রুত এই সেবা প্রদান—স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসার ঝড় বয়ে দিয়েছে এবং দালালশূন্য পরিবেশ তৈরি করেছে।

 

নামজারীর খতিয়ান কপি ভূমির মালিকের হাতে তুলে দিচ্ছেন বাহুবল উপজেলা এসিল্যান্ড মো. মাহবুবুল ইসলাম।

তিনি মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ইতোমধ্যেই ৩০০০টির বেশি মামলা নিরসন করেছেন। শুধু ভূমি সেবা নয়, তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণেও কার্যকর ভূমিকা রাখছেন—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তা দৃশ্যমান প্রভূত অবদান রাখছে।

বিষয়টি নিয়ে বাহুবল উপজেলার এসিল্যান্ড মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “তৃতীয়পক্ষের কাছে না গিয়ে মানুষ যাতে সরাসরি অফিসমুখী হয়, সেটাই আমার উদ্দেশ্য। তবে মানুষ এখনও অফিসে আসতে কুণ্ঠাবোধ করে। তাই শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ।”

এর পূর্বে সিলেট সদর উপজেলায় এসিল্যান্ড থাকা অবস্থায় তিনি “ভূমিকুঞ্জ” নির্মাণ করেন এবং দালালবিহীন সরাসরি সেবা প্রদান করে সুনাম অর্জন করেন। তিনি সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নে সুনামের সহিত প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে জায়গা করে নিয়েছিলেন মানুষের হৃদয়ে। প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি স্বচ্ছতার নিদর্শন রেখে গেছেন।

একটি বিশেষ মুহূর্ত—একসময় তিনি ফুটবল খেলতে এসেছিলেন বাহুবলে, আর আজ সেই এলাকার মানুষই তাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দেখছেন। এটি স্থানীয়দের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আস্থার প্রতীক।

তিনি মো. মাহবুবুল ইসলামের এই মহৎ উদ্যোগ শুধু বাহুবলেই নয়, বরং দেশের সর্বত্র মানুষের সেবাকে আরও সহজলভ্য করার প্রত্যাশা জাগিয়েছে। তার প্রচেষ্টা ভূমি সেবার মানোন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সবার বিশ্বাস।

প্রথম/সিলেট/মতিউর