ওয়ান ইলেভেন পরবর্তি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্ভরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। তৎকালীন সময়ে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবং শফিকুর রহমান চৌধুরীর মধ্যে ছিলো বেশ সখ্যতা । পরবর্তিতে আনোয়ারুজ্জামান সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মত প্রকাশ করলে সেটা মানতে নারাজ হন শফিক চৌধুরী।এর পর থেকেই শুরু হয় দ্বন্দ্ব। তাদের গ্রুপিং দ্বন্দ্বে উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে এলাকা। অপরদিকে আওয়ামীলীগের শেষ সময়ে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছিলো। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী হয়েছিলেন সিলেট সিটি মেয়র এবং শফিকুর রহমান চৌধুরী ২০২৪’শের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে জ্বয়লাভ করে হয়েছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শফিকুর রহমান এবং আনোয়ারুজ্জামান দু’জনেই সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে চাইলে সিলেট-২ আসনে নৌকার বদলে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। উভয়ের দ্বন্দ্ব চলমান থাকায় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ,পুনরায় লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহন করেন ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি যেভাবে জ্বয়লাভ করেছিলেন সেই সুযোগ না হওয়াতে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায় । সেই নির্বাচনে বিএনপির ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন সূর্য প্রতীকের মোকাব্বির খান। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলেও এখানকার সংসদ সদস্য ছিলেন বিরোধি দলের। এছাড়াও আওয়ামীলীগের দুই নেতার গ্রুপিং দ্বন্দ্বে এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি। বরং আওয়মীলীগ এবং অন্য দলের কিছু ব্যাক্তি লাভবান হয়েছেন।

দুই নেতার নেতৃত্বে মফস্বল থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে গ্রুপিং দ্বন্দ্ব । ২১ জুন ২০২৩ সিলেট সিটি নির্বাচন অনুষ্টিত হলে আওয়ামীলীগের দলীয় নির্দেশে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন না করায় ফাঁকা মাটেই জ্বয়লাভ করেন তিনি। ২০১৪ -২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করেলও ২০২৪ সালের ০৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল ,সুর্য প্রতীক থাকলেও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন শফিকুর রহমান চৌধূরী। সুর্য ,লাঙ্গল, কিংবা অন্যান্যরা সুবিধা করতে পারেননি। তাই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরি। এরপর তিনি হয়ে যান প্রতিমন্ত্রী।

দুই নেতার ভাগ্যের চাকা ঘুরলেও তারা কেউ ছিলেন নগর নিয়ে আবার কেউ ছিলেন মন্ত্রীত্ব নিয়ে ব্যস্ত। আওয়ামীলীগের যে অল্প ক’দিন সময় পেয়েছিলেন সেই সময়টুকুতেও এলাকার উল্লেখ যোগ্য কোন উন্নয়ন করতে দেখা যায়নি। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তারাও গায়েব হয়ে গেছেন এলাকা থেকে। স্থানীয় একাধিক নেতার অভিযোগ রয়েছে, তারা যুক্তরাজ্যে থেকে এসে এখানকার রাজনীতিকে বিভাজন করে আবারো চলে গেছেন যুক্তরাজ্যে। স্থানীয়রা রাজনীতিতে সময় ব্যায় করলেও উভয় নেতার জন্য কেউ দলে কোন সুবিধা নিতে পারেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আ’লীগের একাধিক নেতা জানান , তারা যুক্তরাজ্যে থেকে এসে রাজনীতি করে নেতা হয়ে নিজেরাই সুবিধাভোগ করেছেন বেশি। আওয়ামীলীগের দীর্ঘ শাসনামলে তাদের মাধ্যেমে লক্ষণীয় কোন উন্নয়ন হয়নি। দল ক্ষমতায় নেই তাই তারা আবার তাদের দেশে চলে গেছেন। আ’লীগ আর কখন রাজনীতি করার সুযোগ পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই তারাও আর দেশে ফীরবেন বলে মনে হয়না।