রাষ্ট্র কাঠামো ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও ধানের শীষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের কর্মসংস্থান পুনরায় চালু করার দাবিতে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জসহ সিলেট-৪ আসনে বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের মামার দোকান পয়েন্টে এ শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ ছিদ্দিকী। তিনি বলেন,
কর্মসংস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। সিলেট-৪ আসনের হাজারো শ্রমিক যখন বেকারত্বে দিন কাটাচ্ছে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিএনপি ক্ষমতায় এলে শ্রমিকদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও অধিকার নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে শ্রমজীবী মানুষের জীবন দুঃসহ হয়ে উঠেছে। জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির জন্য আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সালেহ খসরু, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশীদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান শাহীন, জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক জি-এম সফিক, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল আহমদ, জেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন বেলাল।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্স। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জের শ্রমিকেরা কর্মহীন। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ।
এসময় বিভিন্ন সংগঠন মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে যোগ দেয়, মিতালী যুব সংঘ, বার্কি সংগঠন, পাথর উত্তোলন সংগঠন, বালু সংগঠন, বেলচা সংগঠন, মধ্য জাফলং বার্কি সংগঠন, অটো সংগঠন, মেকানিক সংগঠন, ট্রাক-পিকআপ শ্রমিক সংগঠন, বন্ধন ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা এবং ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম পারভেজ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারের দমন-পীড়ন সত্ত্বেও শ্রমিকেরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তারা।
সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মী, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। শেষে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকারের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।