জৈন্তাপুরে আধুনিক প্রযুক্তির নজর অত্যাধুনিক চাষ যন্ত্র ট্রাক্টর ব্যবহার করে অনাবাদি বিন্নাউরা জমিকে কৃষি চাষযোগ্য করে তোলা হচ্ছে।
এতে বুধবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১১টায় স্বাধীনতার পরবর্তী দীর্ঘ ৫৩ বছরের বেশি সময় অনাবাদি জমি যেগুলো জংলি বিন্নাউরা হিসেবে পড়ে ছিল,সেই জমি নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা।
কৃষকদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্টেন্ট প্রজেক্ট বা ফ্রিপ প্রকল্পের মাধ্যমে।
এই প্রকল্পের হাত ধরে চলতি বছর জৈন্তাপুরের প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের একটি গ্রুপকে দ্রুত সময়ের মধ্যে জমির চাষযোগ্য একটি ট্রাক্টর প্রদান করা হয়েছে। ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের গ্রুপে সরবরাহকৃত এই ট্রাক্টরটি এসিআই সোনালিকা ব্রান্ডের। সেই সাথে যন্ত্রটির হর্স পাওয়ার হচ্ছে এইচপি আর এক্স ৬০।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, এই যন্ত্র ব্যবহার করে ১ দিনে এক হেক্টর জমি তিনবার চাষ করা সম্ভব। ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় কৃষক পর্যায়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভর্তুকি মূল্যে ৩০ জন কৃষককে এই যন্ত্রটি সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষকদের এই গ্রুপটি জৈন্তাপুর উপজেলার ৫ নং ফতেহপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হেমু এলাকায় যারা হেমু ফ্রিপ কৃষক গ্রুপ নামে পরিচিত।
ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় দেয়া ট্রাক্টরটির মাধ্যমে বিন্নাউরা জমিতে চাষ শুরুর মাধ্যমে এর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় হেমু ফ্রিপ কৃষক গ্রুপ ৩০ জন কৃষকসহ আরও উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ফ্রিপ প্রকল্পের কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রথম দিনে হেমু এলাকায় ১৫ হেক্টর বিন্নাউরা জমিকে কৃষি চাষের আওতায় এনে টাক্টর দিয়ে চাষাবাদের কাজ শুরু করা হয়।
এ বিষয়ে হেমু ফ্রিপ কৃষক গ্রুপের প্রধান স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ নাঈমুল্লাহ্ বলেন, এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দের দিন। আমরা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা এত অর্থ ব্যয় করে কোনোদিন এরকম দামি ট্রাক্টর কিনতে পারতাম না। ফ্রিপ আমাদের সেই সুযোগের পাশাপাশি এখন দীর্ঘদিনের অনাবাদী বিন্নাউরা জমিগুলো চাষযোগ্য করার সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি জানান, আপাতত আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ১৫ হেক্টর বিন্নাউরা জমি চাষযোগ্য করা লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, এই জমিগুলোতে চলতি মৌসুমে বোরো, ভুট্টা ও সরিষা চাষের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। উক্ত ফসল চাষের পূর্বে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনায় সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ তারা বুঝে পেয়েছেন।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, এটা কৃষকদের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা বাস্তবায়ন করছে ফ্রিপ প্রকল্প।
তিনি বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন আনুমানিক ২২০ হেক্টর বিন্নাউরা বা অনাবাদি জমি রয়েছে। যা কয়েক যুগ ধরে কোনো চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এই প্রথম কৃষক পর্যায়ে ভর্তুকির মাধ্যমে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক্টর বিতরণের ফলে দ্রুত সময়ে এই অনাবাদি বিন্নাউরা জমিগুলোকে চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫ হেক্টর জমিকে চাষযোগ্য করা শেষে বাকি বিন্নাউরা জমিগুলোতে কৃষকরা ট্রাক্টরটি স্বল্প ভাড়ায় নিয়ে চাষের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, ফ্রিপ প্রকল্প শুধু উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন যন্ত্র সরবরাহ নয়, বরং প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিতে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে সেচ প্রকল্প চালু করেছে। ইতোমধ্যে উপজেলায় ২টি সেচ প্রকল্প চালু হয়েছে। এই দুটি সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার বালিপাড়া, শিকার খাঁ, দিঘিরপাড় এলাকায় প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।