সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী ও ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সিলেট বিভাগীয় পণ্য পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে পৃথক পৃথকভাবে সিলেট বিভাগের ট্রাক গাড়ি থেকে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং চট্ট-২১৫৯ এর সভাপতি আবু সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম আহমদ লস্কর, সুনামগঞ্জ ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফয়জুর নুর, হবিগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মনির মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আজাদুর রহমান অদুদ প্রমুখ। এছাড়াও স্মারকলিপি প্রদানকালে পন্য পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন- লাফার্জ সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, আকিজ ফ্যাক্টরী ও ঐতিহ্যবাহী ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরী এর মালামাল বহনের জন্য প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ট্রাক গাড়ি যাওয়া আসা করে। এখানে কোনো ট্রাক টার্মিনাল না থাকা সত্বেও ছাতক পৌরসভার নামে প্রতি ট্রাকগাড়ি থেকে ১৩০-১৫০ টাকা অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হয়। জগন্নাথপুর উপজেলায় বাজার উন্নয়নের নামে প্রতি ট্রাক গাড়ি থেকে ১০০ টাকা, হবিগঞ্জ জেলার ইনাতগঞ্জ নামক স্থানে বাজার টোলের নামে ছোট ট্রাক গাড়ি থেকে ১০০ টাকা ও বড় ট্রাক গাড়ি থেকে ২০০ টাকা, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সেন্ট্রাল রোডে বড়লেখা বাজার কমিটির নামে প্রতি ট্রাক গাড়ি থেকে ১০০ টাকা, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন পাড়ুয়া, শারপিন, বুধবারি বাজার, দয়ারবাজার টুকের বাজারে ছোট ট্রাক গাড়ি থেকে ১০০ টাকা ও বড় ট্রাক গাড়ি থেকে ২০০ টাকা, গোয়াইনঘাট থানাধীন বাজারে প্রতিগাড়ি লোড আনলোড করিলে বাজার কমিটিকে ২০০ টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়াও অন্যান্য জায়গা থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হয়।
উল্লেখ্য, ছাতক পৌরসভার নামে অবৈধ চাঁদাবাজী বন্ধের দাবীতে ২০০০ইং সনে অনেকবার স্মারকলিপি প্রদায় করা হয়েছে এবং প্রশাসনের অভিযানে চাঁদা নেওয়া বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে কিছু কুচক্রী মহল শ্রমিকনেতা দাবী করে বিভিন্ন পন্থায় চাঁদাবাজী করে যাচ্ছে।
এদিকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সেতুতে টুল আদায়ের নামে প্রত্যেক গাড়ি থেকে টুলের নির্ধারিত টাকার পরিবর্তে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। তাছাড়া উল্লেখিত কয়েকটি সেতুর টুল আদায়ের মেয়াদ অতিক্রম হয়ে গেছে। অথচ উক্ত সেতু থেকে অবৈধভাবে টুলের নামে চাঁদাবাজী করা হচ্ছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বক্তবা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর দেশ থেকে বৈষম্য দূর হয়েছে। প্রত্যেকে তারা নিজ নিজ অধিকার ফিরে পাচ্ছেন। অথচ আমরা পন্য পরিবহন শ্রমিকরা আজও বৈষম্যের স্বীকার। এসব চাঁদাবাজী দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধ না করা হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে এবং পন্য পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে পন্য পরিবহন খ্যাত থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। বক্তারা পন্য পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকরি প্রদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।