কর্মতৎপরতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনসেবা প্রদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘অফিসার অব দ্যা মান্থ (ডিসেম্বর ২০২৫ ইং) নির্বাচিত হয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক। রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তার এর পরিচালনায় প্রাণবন্ত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ সহ জেলা প্রশাশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। পাহাড়ি নদী যাদুকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্যের রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরসহ জীববৈচিত্র্যের অফুরন্ত সম্ভার এই জনপদে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ ধরা, বালু উত্তোলন, বন ও জলাভূমি দখল প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই পরিস্থিতিতে বদলে যাচ্ছে চিত্র।
যোগদানের পর থেকেই তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে একাধিকবার দুর্ঘটনার কবলেও পড়েন। তাঁর পদক্ষেপে অবৈধ দখল ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে এসেছে আর এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মনে। অন্যদিকে, প্রতিবছর লাখো পাখির আগমন ঘটে বিশ্ব ঐতিহ্য রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে। কিন্তু অবৈধ জাল ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার কারণে হুমকির মুখে পড়েছিল এ হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ। ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক এর নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় বন্ধ হচ্ছে এসব অনিয়ম। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাওরাঞ্চলে মাইকিং প্রচার ধীরে ধীরে ফিরছে জীববৈচিত্র্যের প্রাণচাঞ্চল্য।
অপরদিকে, তাহিরপুর সীমান্তের যাদুকাটা নদীসহ সীমান্তের বিভিন্ন নদী ও পাহাড়ি ছড়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের শিকার। এতে নদীর প্রবাহ ও স্থানীয় পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছিল। ইউএনও মানিকের কঠোর পদক্ষেপে এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এই চক্র। অতীতে দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তাকে নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক ভিন্ন এক সরকারি কর্মকর্তা।
আদর্শিক এই ইউএনও পুরস্কার পেলেও বিনম্র। তিনি বলেন-“আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, দায়িত্বটুকুই পালন করছি। হাওর এলাকার মৎস্যসম্পদ রক্ষা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন উপজেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। পুরস্কার বিষয়ে তিনি বলেন- মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় একজন সুদক্ষ-চৌকস। এমন সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া আমার জন্য গর্বের বিষয়। এ পুরস্কার তাহিরপুর উপজেলাবাসীর।
‘তাহিরপুরের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইউএনওর নেওয়া উদ্যোগ ইতোমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রকৃতির সজীবতা ফিরে পাবে পুরো তাহিরপুর উপজেলা, আর এটি হবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সফল উদাহরণ।