জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই সারাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে আলোচনা-উত্তাপ শুরু হয়েছে। সেই হাওয়া এসে লেগেছে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভাতেও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক, চায়ের দোকান, রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কে হবেন আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার অভিভাবক?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ-এর কোনো নেতাকর্মীর নাম প্রকাশ্যে শোনা না গেলেও, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এতে স্পষ্ট পৌর নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ভেতরেই শুরু হয়েছে নীরব প্রতিযোগিতা।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নকে ২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি দুই ভাগে বিভক্ত করে সাড়ে ৬ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হয়। পৌরসভাটি ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আইনি ও সীমানা জটিলতার অজুহাতে আজ পর্যন্ত একটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়নি।
২১ বছরে একটি পৌরসভায় ভোট না হওয়া কি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি পরিকল্পিত অবহেলা—এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।
পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে বারবার প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে পৌরসভাটি। ফলে পৌরবাসী নিয়মিতভাবেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসকনির্ভর ব্যবস্থায় নেই জবাবদিহিতা, নেই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
একজন পৌরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোট ছাড়া জনপ্রতিনিধি আসে না। প্রশাসক আসে-যায়, কিন্তু আমাদের সমস্যা থেকেই যায়।”
সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আলোচনায়
অনুসন্ধানে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে যেসব নাম ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে, তাঁরা হলেন-
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর প্রশাসক মরহুম গোলাম ফারুকের বড় ভাই এডভোকেট গোলাম কবির, সাবেক উপজেলা যুবদল সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহব্বায়ক মাসুদ পারভেজ, বিএনপি নেতা ও
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আজমিরীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহব্বায়ক অভিরাম দাস, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ভিপি ফকরুল ইসলাম এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন দিলু।
নির্বাচন প্রসঙ্গে স্থানীয় স্থানীয় বাসিন্ধা পলাশ মিয়া বলেন, “২১ বছর ধরে প্রশাসক দেখলাম, এবার ভোটের মাধ্যমে মেয়র দেখতে চাই। নির্বাচিত মেয়র ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না।”
একই কথা বলেন এক কলেজশিক্ষার্থী,
“আমরা ভোটার হয়েছি, কিন্তু পৌরসভায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। এবার যদি নির্বাচন না হয়, তাহলে সেটা আমাদের সঙ্গে চরম অবিচার হবে।”
আরেক স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক বলেন,
“ আইনি জটিলতার কথা বলে বছরের পর বছর নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন আর কোনো অজুহাত মানি না।”
জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আজমিরীগঞ্জ পৌরবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই দাবি- “আর নয় প্রশাসক, চাই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত মেয়র।”
দীর্ঘদিন যাবৎধরে সীমানা নির্ধারন নিয়ে উচ্ছ আদালতে মামলা থাকার কারনে নির্বাচন নিয়ে ধুয়াশা দেখছেন স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা।
২১ বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা একটি পৌরসভা কি এবার গণতন্ত্রের মুখ দেখবে, নাকি আবারও ‘ আইনি জটিলতার অজুহাতে ভোটাধিকার ফাইলবন্দি থাকবে’—এই প্রশ্নের উত্তরই খোঁজছে পৌরবাসী।
এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪/৫ জন করে ওয়ার্ড কমিশনার সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম শুনা যাচ্ছে।