মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় শ্রী শ্রী উদ্ধব ঠাকুরের আখড়া কমিটির উদ্যোগে মৌলভীবাজার-০১ (বড়লেখা-জুড়ী উপজেলা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) পাখিয়ালায় অবস্থিত শ্রী শ্রী উদ্ধব ঠাকুরের আখড়া প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আখড়া কমিটির সভাপতি মঞ্জু লাল দে’র সভাপতিত্বে এবং শুভ্র দে’র সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করেন তপন চৌধুরী। মানপত্র পাঠ করেন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শীতাংশু দে ও গোপাল দত্ত। স্বাগত বক্তব্য দেন দপ্তর সম্পাদক দিলীপ দে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন টিএসএসের সভাপতি দীপক দে, সমাজসেবক শ্রী অনুকূল দেব, অ্যাডভোকেট গোপাল দত্ত (সাবেক সভাপতি, বড়লেখা প্রেসক্লাব), ডা. দীগেন্দ্র চন্দ্র নাথ, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত পাল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টর আহ্বায়ক শৈলেশ রায় এবং পৌর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান খসরু, সাবেক চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক মুহিবুর রহমান ফারুক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান খান, বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, বড়লেখা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তুতিউর রহমান তোতাব আলী, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ ললন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ এবং জুড়ী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দিবাকর দাসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সহযোগিতা করার শিক্ষা তিনি দিয়েছেন। সিলেট অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত দলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। দলীয় কাঠামোতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর নেতৃত্ব রয়েছে এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় আছে। এবারের নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন বলেও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মতো মন্দিরের পুরোহিত ও গির্জার পাদ্রীদের সম্মানির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য সরবরাহে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া বরাদ্দকৃত উন্নয়ন তহবিল বৈষম্যহীনভাবে বণ্টনের অঙ্গীকার করে এমপি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ৪টি মসজিদ, ৪টি মন্দির, ১টি কবরস্থান, ১টি শ্মশান এবং সুযোগ থাকলে ১টি ঈদগাহের জন্য বরাদ্দ বণ্টনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বড়লেখা উপজেলায় ৪৪টি মন্দিরের তালিকা উল্লেখ করে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি মন্দির ন্যূনতম ৩ লাখ টাকা করে পাবে বলে জানান তিনি।