সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়া যেন এখন লাখাই উপজেলার নিয়মিত নিয়ম।
সোমবার দিবাগত রাতগত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়ার পর এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বুধবার রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত অর্থাৎ ৪১ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও মফস্বলের এই জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
ঘুর্ণিঝড় পরবর্তী পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ ফিরলেও লাখাইয়ে বিদ্যুৎ না আসায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাকে দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
টানা দেড় দিনেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার গ্রাহক। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়োবৃদ্ধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা। এতে করে জনজীবন অতিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়িগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা জুড়ে বিদ্যুৎনির্ভর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
অপরদিকে বিদ্যুৎ হীনতার প্রভাব পড়েছে সরকারি সেবা খাতেও, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যত বিঘ্নিত হচ্ছে সেবার কার্যক্রম।।
হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং দাপ্তরিক কাজকর্মে সৃষ্টি হয়েছে চরম জটিলতা।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, আর দুর্যোগ হলে তো কথাই নেই। দীর্ঘ ৪১ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কর্তৃপক্ষের এমন ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ আচরণ ও গাফিলতির প্রতিবাদে ফুঁসছে এলাকাবাসী।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে লাখাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যনেজার ( ডিজিএম) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ঝড়ে প্রধান সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।”
তবে কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাস সত্ত্বেও দীর্ঘ ৩৭ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ায় গ্রাহকদের ক্ষোভ কমছে না।