টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ২ হাজার ৫১০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে আরও ১ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমি। গতকাল শনিবার স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ওই অঞ্চলের কৃষকরা। একদিকে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা জমির আধা-পাকা ধান, অন্যদিকে যারা আগেভাগেই ধান কেটেছিলেন, তারা পড়েছেন ধান শুকানোর সংকটে। বৃষ্টির কারণে ধান শুকানোর মাঠ (খলা) তলিয়ে যাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় স্তূপ করে রাখা ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে।

​কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর চাষাবাদ ও ধান কাটার খরচ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। যেখানে গত বছর কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে প্রতি বিঘা ধান কাটতে খরচ হতো ২ হাজার টাকা, এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার টাকায়। খরচের বোঝা বাড়লেও বাজারে ধানের দাম আশানুরূপ নয়। বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম বলে দাবি ভুক্তভোগী কৃষকদের।

​৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নের বগী গ্রামের কৃষক কবির মিয়া নিজের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, “এ বছর ৪৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ফলনও হয়েছিল চমৎকার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ২৫ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি ১০ বিঘা কাটার পর খলায় পানি উঠে যাওয়ায় ধানে চারা গজিয়ে গেছে। নদীর পানি আর জমির পানি এক হয়ে যাওয়ায় পানি কমার সম্ভাবনাও খুব কম।” দিশেহারা এই কৃষক আরও জানান, সারা বছরের সংসারের খরচ আসে এই ফসল থেকে; এখন পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​স্থানীয় কৃষকরা এখন এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগের যথাযথ তদারকি কামনা করছেন।