সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানাধীন সতের গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শাশুড়ীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জালালাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোছা. জুলি আক্তার (২৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. জুলি আক্তার সতের গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মো. আব্দুল খালিকের স্ত্রী। প্রায় চার বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ১নং আসামী মো. আব্দুল্লাহ (৩০), শাশুড়ী আছিয়া বেগম (৫৫) এবং আব্দুল্লাহর শ্যালক মনির (২৮) দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর ওপর বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে সতের গ্রামে স্বামীর বাড়ির নিজ কক্ষে অবস্থানকালে ১নং আসামী আব্দুল্লাহ ও ৩নং আসামী মনির মদ্যপ অবস্থায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে অশ্লীল আচরণ শুরু করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তার শাশুড়ীকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ নেন এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা একত্রিত হয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে কিল-ঘুষি, লাথি মেরে মারধর করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর তিনি তার স্বামীকে বিষয়টি জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং তার স্বামী অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এদিকে বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীর পিতা সেখানে ছুটে যান। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রথমে বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তারা অভিযুক্তদের বিচার সালিশের আওতায় আনতে ব্যর্থ হন বলে জানান। পরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ভুক্তভোগী জালালাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।