হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়াকরি হাই স্কুল এন্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি মোতালিব মিয়ার বিরুদ্ধে জাল সনদ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। বিতর্কিত এই নেতৃত্ব বাতিল এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় মুড়াকরি বাজারে কয়েকশ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
সকাল থেকে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন এলাকাবাসী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। প্রায় ৩ ঘণ্টা স্থায়ী এই মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা “শিক্ষা বাঁচাও, প্রতিষ্ঠান
বাঁচাও”, জালিয়াতি সভাপতি মানি না, মানব না”, এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাই, স্লোগানে মুখর করে তোলে চারপাশ। আন্দোলনের ফলে রাস্তার দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, মোতালিব মিয়া কবি নজরুল সরকারি কলেজের নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া ও জাল বি.এ পাসের সার্টিফিকেট জমা দিয়ে সভাপতির পদ হাতিয়ে নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এসএসসি পাস করার পর কোথায় পড়াশোনা করেছেন তার কোনো হদিস নেই। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল তারিখে এলাকাবাসীর পক্ষে হোসেন আলী জেলা প্রশাসক ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী জানান, প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার্থে আমরা কোনো অযোগ্য ও বিতর্কিত
নেতৃত্ব মানবো না। দ্রুত তদন্ত করে যোগ্য ও শিক্ষাবান্ধব সভাপতি নিয়োগ না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে লাখাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ পুলিশের একটি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মোতালিব মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো জাল সনদ ব্যবহার করিনি। কিছু লোেক আমার সম্মানহানি করতে এসব করাচ্ছে। তবে এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নুরুল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজপথে এখন একটাই দাবি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন মুড়াকরি হাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।