হবিগঞ্জের বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা কয়েক দিনের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা। এমন পরিস্থিতিতে লোডশেডিং কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দ্রুত মেরামতকাজ শেষ করে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনতে জোরালো তৎপরতা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূলতা গ্রিডের নিকটবর্তী ভূলতা–নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের Y ফেজের পাঁচ স্প্যান কন্ডাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কাজটির জটিলতার কারণে দেশীয় ঠিকাদার মেরামত সম্পন্ন করতে না পারায় গত ২৫ জুলাই বিকেল থেকে চীনা বিশেষজ্ঞ ঠিকাদার ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতকাজের দায়িত্ব নিয়ে পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সম্পূর্ণ মেরামতে আরও আনুমানিক দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে শুরু থেকেই সক্রিয় রয়েছেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করে দ্রুত মেরামতকাজ শেষ করার পাশাপাশি বানিয়াচংয়ের অসহনীয় লোডশেডিং কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা ও জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে চলমান মেরামতকাজের সময়েও এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে এমপি ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন,
“বিদ্যুতের এই সংকট একটি বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর থেকেই আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। দ্রুত মেরামতকাজ শেষ করার পাশাপাশি বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের মানুষের কষ্ট কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছি। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিংকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আর কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এই সাময়িক দুর্ভোগে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ধৈর্য, সহযোগিতা ও আন্তরিক সমর্থন কামনা করছি।”
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “ভূলতা–নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জসহ হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের চেষ্টা করছি এবং প্রয়োজনীয় লোড ম্যানেজমেন্ট করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামত শেষ হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। সাময়িক এই দুর্ভোগের জন্য গ্রাহকদের সহযোগিতা ও ধৈর্য কামনা করছি।”
তিনি আরও জানান, বানিয়াচং জোনাল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন এবং আজমিরীগঞ্জ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম নুরুল আমিন সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, বিদ্যুৎ সরবরাহের সমন্বয় এবং লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে নিবিড় মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে, গত কয়েক দিনের তুলনায় ২৬ জুলাই সকাল থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক এলাকায় লোডশেডিংয়ের সময় কমেছে, যা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা আরও জোরালো করেছে।