সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বিজিবির গাড়ির সামনে মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ে সাদ্দাম হোসেন (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সারিঘাট দক্ষিণপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত সাদ্দাম হোসেন রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার রঘুপাড়া এলাকার সাহেব আলীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার (এমআইও) হিসেবে জৈন্তাপুর উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর সদস্যরা দুটি পিকআপযোগে গোয়াইনঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের কনভয় জৈন্তাপুর উপজেলার ৪ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়নের সারিঘাট দক্ষিণপাড় এলাকায় পৌঁছালে একটি বেসামরিক পিকআপ বিজিবির কনভয়কে ওভারটেক করে।

 

এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল বেসামরিক পিকআপটির সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পিছলে পড়ে যায়। পরে মোটরসাইকেল আরোহী ছিটকে পড়ে সরুফৌদ পাথরঘাটা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় বিজিবির পিকআপের সামনে চলে আসেন। এ সময় বিজিবির পিকআপের চালক তাৎক্ষণিক ব্রেক কষে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন।

বিজিবির সদস্যরা দ্রুত আহত মোটরসাইকেল আরোহীকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মোটরসাইকেলটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-হ-৭৫-০১৯৮ এবং বিজিবির পিকআপটির নিবন্ধন নম্বর সিলেট হ-১১-০০৩২।

তবে দুর্ঘটনাটি নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রেক ফেল করে সড়কে পড়ে যায় এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এরপর মোটরসাইকেল আরোহী ছিটকে বিজিবির গাড়ির সামনে পড়ে যান। বিজিবির গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সরাসরি কোনো সংঘর্ষ হয়নি বলে দাবি করেছে বিজিবি।

৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, মোটরসাইকেল আরোহী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রেক ফেল করে রাস্তায় পড়ে যান। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর তিনি ছিটকে বিজিবির গাড়ির সামনে পড়ে যান। এ সময় বিজিবির সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত জৈন্তাপুর হাসপাতালে পাঠান। বিজিবির গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহীর কোনো ধাক্কা লাগেনি। পুলিশ তদন্ত করলে দুর্ঘটনার প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।

এদিকে, খবর পেয়ে সিলেট-তামাবিল হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

সিলেট-তামাবিল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।