সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক সংকট নিরসন, নিয়মিত ও অতিরিক্ত ক্লাস গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২০২৬ সালের এসএসসি, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মা, পরিবার ও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যারা এবার সংবর্ধনা পায়নি, তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিয়মিত চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তারাও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
তিনি বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। কয়েকদিন পড়াশোনা করে আবার বিরতি দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের ট্রেড ও বিষয় অনুযায়ী মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।
জৈন্তাপুরের শিক্ষার ফলাফল আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৪০ শতাংশের নিচে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের নিয়ে বসে ফলাফল উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষদের নিয়ে বৈঠক করার পরামর্শ দেন তিনি।
শিক্ষক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী সরবরাহ, নিয়মিত ও অতিরিক্ত ক্লাস গ্রহণ এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়।
দাখিল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করায় খরিল নেজামুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করায় সারীঘাট উচ্চ বিদ্যালয় এবং এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করায় সেন্ট্রাল জৈন্তা উচ্চ বিদ্যালয়কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুনন্দা রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার পাল, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ, চারিকাঠা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহআলম চৌধুরী তোফায়েল, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শরীফ উদ্দিন লিটু ও জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল, অনলাইন প্রেসক্লাব নির্বাহী সদস্য মুরাদ হাসান, সাইফুল ইসলাম বাবু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন।
এর আগে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জৈন্তাপুর মডেল থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি থানার বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় জৈন্তাপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সরকারি দপ্তরগুলোর চলমান কর্মক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।