মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিরল প্রজাতির একটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকা থেকে সাপটি উদ্ধার করেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে সাপটিকে উত্তর আমেরিকার ইস্টার্ন কিং স্নেক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কুঞ্জবন এলাকায় অপরিচিত সাপটি দেখতে পান। দেখতে ভিন্ন হওয়ায় এবং বিষধর সাপের আশঙ্কায় তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় শিক্ষক ড. একরামুল কবির বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘এ ধরনের সাপ শ্রীমঙ্গলে আমরা আগে দেখিনি। উদ্ধার হওয়া সাপটি আকারে ছোট। এটি বাচ্চা সাপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, সাপটির প্রজাতি নিশ্চিত করার জন্য এর ছবি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসানের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞের মতামত পাওয়ার পর সাপটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রাথমিকভাবে সাপটির শরীরের গঠন ও দাগের বৈশিষ্ট্য দেখে এটিকে ইস্টার্ন কিং স্নেক (Eastern Kingsnake) বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lampropeltis getula। এ প্রজাতির সাপ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়। তবে শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার হওয়া সাপটি একই প্রজাতির কি না, তা বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত শনাক্তকরণের পর নিশ্চিত হবে।
ইস্টার্ন কিং স্নেক সাধারণত কালো বা গাঢ় বাদামি রঙের হয়ে থাকে। শরীরজুড়ে সাদা বা হলুদাভ শিকলসদৃশ দাগ এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এরা সাধারণত বন, মাঠ, জলাভূমি ও নদীর আশপাশের এলাকায় বিচরণ করে। পূর্ণবয়স্ক সাপের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।
এ প্রজাতির সাপ সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। খাদ্যতালিকায় অন্যান্য সাপ, টিকটিকি, ইঁদুর ও পাখির ডিমসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণী রয়েছে। কিং স্নেকের বিভিন্ন প্রজাতি অন্য সাপ শিকার করার জন্যও পরিচিত।