সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের মিছিলের অভিযোগে তাহিরপুর উপজেলার সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত-কে আসামী করা হয়েছে। মামলার এজাহার নামীয় ৪৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মধ্যনগর থানায় এই মামলা দায়ের করেন মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহাজাহান মিয়া। তিনি উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে। জাতীয় দৈনিক কালবেলা পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্বপালন করছেন তিনি।
মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিক সৈকত দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। নিজ উপজেলা তাহিরপুরে পেশাগত দায়িত্বপালনে ছিলেন তিনি। এদিকে, সাংবাদিক সৈকত-কে আসামি করায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সৈকতের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলে তাকে মামলায় আসামি করা যুক্তিযুক্ত নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন।
মামলা বিবরণে প্রকাশ, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের বাঙালভিটা এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মিছিলের ঘটনায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। অন্য থানার একটি ঘটনায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি উদঘাটনের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুদ্দিন শাহিন বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। সাংবাদিক শওকত হাসানের সম্পৃক্ততা না থাকলে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, তদন্তে প্রমাণিত না হলে কাউকে হয়রানি করা হবে না।