জীবনের সবচেয়ে আপন আশ্রয় হারিয়ে শোকে কাতর সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বানিয়াচং উপজেলা কমিটির সভাপতি দেওয়ান শোয়েব রাজা ও তাঁর পরিবার।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বানিয়াচং উপজেলার ৩ নম্বর হাবেলী রাজবাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন তাঁর মমতাময়ী মা বেগম আহমদা চৌধুরী। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ৩ নম্বর হাবেলী রাজবাড়িতে নেমে আসে শোকের আবহ। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে একনজর দেখতে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসী। স্বজনদের কান্না ও বিষণ্ন পরিবেশে ভারী হয়ে ওঠে রাজবাড়ির চারপাশ। মায়ের চিরবিদায়ে গভীর শোকাহত দেওয়ান শোয়েব রাজা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

বেগম আহমদা চৌধুরী ছিলেন স্নেহ-মমতা, সৌজন্যবোধ ও মানবিকতার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। রাজপরিবারের সদস্য হয়েও তাঁর জীবনযাপনে ছিল না কোনো অহংকার বা আভিজাত্যের দম্ভ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়া এবং মানুষের সুখ-দুঃখে আন্তরিকভাবে পাশে থাকার মানসিকতা তাঁকে স্থানীয় মানুষের কাছে করে তুলেছিল শ্রদ্ধাভাজন ও আপনজন।

তাঁর চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের জন্যই নয়, তাঁকে ভালোবাসতেন এমন বহু মানুষের জন্যও বেদনার। একজন মমতাময়ী মায়ের বিদায়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা কোনো শব্দে প্রকাশ করা যায় না, কোনো কিছুর বিনিময়ে পূরণও করা যায় না।
বেগম আহমদা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক, বানিয়াচং উপজেলা কমিটি। সংগঠনের সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন এক শোকবার্তায় বলেন, “বেগম আহমদা চৌধুরীর মৃত্যুতে আমরা একজন মহৎ, মানবিক ও জনহিতৈষী নারীকে হারালাম। তাঁর মতো স্নেহময়ী ও হৃদয়বান মানুষের চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

তিনি আরও বলেন, “রাজপরিবারের সদস্য হয়েও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল ও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ তাঁকে সবার কাছে আপন করে তুলেছিল। তাঁর মৃত্যু দেওয়ান শোয়েব রাজা ও তাঁর পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মায়ের শূন্যতা কোনো কিছুর বিনিময়ে পূরণ হওয়ার নয়।”
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন
মরহুমা বেগম আহমদা চৌধুরীর নামাজে জানাজা সোমবার এশার নামাজের পর ২ নম্বর রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন।
পরে ২ নম্বর রাজবাড়ী জামে মসজিদের পূর্ব পাশে অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

মৃত্যুকালে তিনি সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক, বানিয়াচং উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে মরহুমা বেগম আহমদা চৌধুরীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি জানানো হয়েছে গভীর সমবেদনা। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন-এই প্রার্থনা স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।