শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের হিফজ শিক্ষা, এতিম শিক্ষার্থীদের আবাসন, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ ও বিভিন্ন মানবিক সেবামূলক উদ্যোগ পরিচালনার কথা জানিয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের নাজাত ইসলামী মারকাজ। প্রতিষ্ঠানটির এসব কার্যক্রম ও উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ ছালেহ আহমদ হামিদী।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরব বাজার এলাকায় নাজাত ইসলামী মারকাজের প্রধান কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মাওলানা শেখ ছালেহ আহমদ হামিদী জানান, ২০০৮ সালে নাজাত ইসলামী মারকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করা হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির আওতায় হাফেজি ও কওমি মাদ্রাসা, নাজাত মডেল স্কুল এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি বয়স্কদের জন্যও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং ব্রেইল পদ্ধতিতে হিফজ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ১০ কিয়ার জমিতে কবরস্থান, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, কর্মহীন ব্যক্তিদের রিকশা প্রদান, শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হুইলচেয়ার দেওয়াসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানান তিনি।

মাওলানা শেখ ছালেহ আহমদ হামিদী বলেন, এসব কার্যক্রম পরিচালনায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা রয়েছে। বিশেষ করে লন্ডনপ্রবাসীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য অনুদান পাওয়া যায়। আয়-ব্যয় ও অনুদানের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় এবং দেশীয় আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় নাজাত ইসলামী মারকাজের ডা. হোসাইন আহমদ হামিদীসহ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এবং মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে নাজাত ইসলামী মারকাজের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও স্থাপনা ঘুরিয়ে দেখান।