সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিকত্ব সনদ ও প্রত্যয়নপত্র নিতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও এক নারী সহকারীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে চেয়ারম্যানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কবির আহমদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে কবির আহমদ নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব সনদপত্র ও একটি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এ সময় নির্ধারিত ইউনিয়ন পরিষদ ফি বাবদ ১০০ টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি ১ হাজার টাকার একটি নোট দেন। পরিষদের সচিব ও কর্মরত নারী সহকারী তাকে ১০০ টাকা খুচরা দেওয়ার অনুরোধ করলে এ নিয়ে তাদের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয় এবং একপর্যায়ে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি শুনে পাশের কক্ষে থাকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী সচিবের কক্ষে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং কবির আহমদকে খুচরা টাকা দেওয়ার বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে কবির আহমদ উত্তেজিত হয়ে পরিষদ থেকে বেরিয়ে গিয়ে চেয়ারম্যানকে হুমকী দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে চেয়ারম্যানের নির্দেশে পরিষদের একজন চৌকিদার তাকে পুনরায় ভেতরে নিয়ে আসেন। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী অভিভাবক সুলভভাবে তাকে সতর্ক ও শাসন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার পর রাতে কবির আহমদ তার ফেসবুক আইডি থেকে চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও কল্পকাহিনী প্রচার করেন। এতে চেয়ারম্যানের পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া অতীতেও কবির আহমদের নিজ নামের ফেসবুক আইডি থেকে চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীকে নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ও বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একটি মহলের ইন্ধনে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলেও চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কবির আহমদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টের স্বাধীনতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর তথ্য প্রকাশের বিষয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ কার্যকর রয়েছে।