স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বটেশ্বরের রণকেলী হাউজিং এলাকায় সুমন আহমদ (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে মারধর, মোটরসাইকেল, মুঠোফোন ও নগদ চার লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে আরও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াবহর, বটেশ্বর, রণকেলী হাউজিংয়ের ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে বলে শাহপরাণ (রহ.) থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন সুমনের মা মোছাঃ নেওয়া বেগম।

অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—ইমরান আহমদ ওরফে টেরা (৩৫), তরিকুল ইসলাম (৪৫), হারুন আহমদ (২৫), সাহেদ আহমেদ (৩৫), সৌরভ আহমদ (২৫) ও মানিক মিয়া (৪৫)।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি প্রাইভেট কার কেনার উদ্দেশ্যে সুমন আহমদ বাড়ি থেকে নগদ চার লাখ টাকা নিয়ে সিলেট শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। রণকেলী হাউজিংয়ের ব্রিজের ওপর পৌঁছালে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার পথরোধ করে জোরপূর্বক আটক করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সুমনের গলায় চাকু ধরে তার ব্যবহৃত জিক্সার মোটরসাইকেল, একটি আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স মোবাইল ফোন এবং সঙ্গে থাকা নগদ চার লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে লোহার রড, জিআই পাইপ, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা দিয়ে সুমনকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে আরও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, সুমনের জীবন রক্ষার জন্য তার বন্ধু ইবাদুল্লাহর ব্যাংক হিসাব থেকে অভিযুক্তদের দেওয়া একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে এক লাখ টাকা পাঠানো হয়। পরে সুমনকে ছেড়ে দেওয়া হলে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খাদিমপাড়ার ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সুমন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী নেওয়া বেগম অভিযোগে আরও বলেন, ঘটনার পর সুমন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এবং তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও অভিযুক্তদের পরিচয় জানতে সময় লাগায় থানায় অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।