জনমানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার ও আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণের প্রত্যয়ে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে অনুষ্ঠিত হলো ৩ নং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমানের এক স্বতঃস্ফূর্ত ও আবেগঘন নির্বাচনী পরামর্শ সভা। গোধূলির আলো পেরিয়ে রাতের আঁধার নামতেই যেন জনতার ঢল নেমে আসে আদার বাড়ির ‘রমার টেকা’র উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। গত বুধবার রাত ঠিক ৮ ঘটিকায় আলোকপ্রভায় উদ্ভাসিত প্রাঙ্গণ এক মহাসমাবেশে রূপ নেয়।
সমাজসেবক ও সম্মানিত সরদার ওমর আলী সাহেবের সভাপতিত্বে এবং সানাউল হক রুবেলের প্রাণবন্ত ও সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির শুভসূচনা হয়। ঐশী গ্রন্থের সুমধুর বাণী পাঠের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু করেন মাওলানা আব্দুল হাকিম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চার মহল্লার শ্রদ্ধেয় সরদার ও পঞ্চায়েত প্রধান, বয়োজ্যেষ্ঠ প্রবীণ মুরুব্বী জনাব কালাই উল্লাহ সাহেব।
সময়ের সাথে সাথে সমাবেশস্থলে জনসমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সুধী ও সর্বস্তরের জনতার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন এলাকার গণ্যমান্য বক্তাবৃন্দ। বক্তব্য রাখেন- মাওলানা মুখলিছুর রহমান, ময়না মিয়া, হাফেজ বদরুল আলম, মোঃ ফখরউদ্দীন মাওলানা হামিদুল ইসলাম। রবিউল ইসলাম, আঃ নূর ফকির,মাওঃ সালমান হাসান, মোঃ আব্দুর রব, হাদিস মিয়া, মোঃ আবু শাহেন, মুছাব্বির হোসেন লিটন, ওসমান গনি, সোনু মিয়া এবং জুনাইদ আবু তাহের (রাশেদ) প্রমূখ ।
উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ তন্ময় হয়ে গুণী বক্তাদের হৃদয়ানুভূতির কথা শ্রবণ করেন। আলোচনায় বিগত দিনের নানা স্মৃতি ও অনুশোচনা প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, “বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁকে নির্বাচিত না করে আমরা এক চরম ভুল সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলাম। কিন্তু ইতিহাসের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আর সেই অন্ধকার পথে পা বাড়াব না। এবার আমাদের একটাই পণ—মাওলানা হাবিবুর রহমানকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে তাঁর মস্তকে জনগণের ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ মুকুট পরাব, ইনশাআল্লাহ।”
সমাবেশের অন্তিম লগ্নে উপস্থিত জনসমুদ্রের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে স্বাগতিক বক্তব্যে আবেগে আপ্লুত হন আসন্ন নির্বাচনের কাণ্ডারি মাওলানা হাবিবুর রহমান। প্রত্যেকের আন্তরিক মতামত অত্যন্ত মনোযোগ ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন, “আপনারা যদি আপনাদের মহামূল্যবান আমানত—ভোটের মাধ্যমে আমাকে পুনরায় সেবা করার সুযোগ দেন, তবে আমি জনগণের অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অক্ষুণ্ণ রাখব ইনশাআল্লাহ। ইউনিয়ন পরিষদে এসে সাধারণ মানুষকে যাতে সামান্য কাজের জন্যও কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম ব্রত। জনস্বার্থে একটি অতি ক্ষুদ্র কাজও যদি ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ হয়, তবে তা সম্পন্ন করতে আমি একবিন্দু পিছপা হব না—তা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”
নেতার এহেন দূরদর্শী ও জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতিতে প্রাঙ্গণজুড়ে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। উপস্থিত আমজনতা সমস্বরে ধ্বনি তুলে আগামী দিনের এই কাণ্ডারিকে জয়যুক্ত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে সভাপতি মহোদয়ের সমাপনী বক্তব্য, মাওলানা মতিউর রহমান সাহেবের হৃদয়গ্রাহী মোনাজাত এবং উপস্থিত সর্বস্তরের জনতার মাঝে তাবাররুক (শিন্নি) বিতরণের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক পরামর্শ সভার সফল সমাপ্তি ঘটে।