সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার গলহা উচচ বিদ্যালয়ের জেএস সি ও পিএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি প্রাপ্ত পাঁচ মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করেন গলহা গ্রামের সামাজিক ও মানবিক সংগঠন গলহা ইসলামী ছাত্র ও যুব পরিষদ।

আজ (১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিঃ) রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলার গলহা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের উপস্থিতিতে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সম্মাননা প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করে মধ্যনগর উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা মেধাবী শিক্ষার্থী মিলি রানী চন্দ, নিঝুম দেবনাথ, ধ্রুব দেবনাথ সহ পিএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত আরও দুই শিক্ষার্থী আবির হাসান ও স্বচছ দেবনাথ সহ সবাইকে সম্মাননা ও উপহার দেওয়া হয়। গলহা ইসলামী ছাত্র ও যুব পরিষদের সদস্য শাহীন মন্ডল ও সহ-অর্থ সম্পাদক কাউছার মিয়া ও সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে উৎসাহ জোগানোর লক্ষ্যে সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন গলহা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী, আলোচনার শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল কাদির বক্তব্যের শুরুতেই ধন্যবাদ জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সকল সদস্যবৃন্দকে তাদের এই মহতীউদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক মানুষ হওয়ার পরামর্শ দেন। প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল হক বক্তব্যে আয়োজন কারীদের ধন্যবাদ জানান পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষক মন্ডলীকে এই সম্মাননার অংশীজন হিসেবে সাধুবাদ জানান।
সংগঠনের সদস্য শাহীন মন্ডল ও সহ-অর্থ সম্পাদক কাউছার মিয়া বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মেধা, পরিশ্রম ও স্বপ্ন। সেই মেধাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং শিক্ষার্থীদের ভালো কাজে উৎসাহিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি তার পরিবার, বিদ্যালয় ও পুরো এলাকার গর্ব।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, আমাদের এলাকার কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অবহেলিত না থাকে। তাদের ছোট একটি সম্মাননা কিংবা সামান্য উপহারও ভবিষ্যতে বড় কিছু অর্জনের অনুপ্রেরণা হতে পারে।”

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি গলহা ইসলামী ছাত্র ও যুব পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমাদের সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য মানবতার সেবা করা। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের পাশে দাঁড়াতে বড় কোনো পদ-পদবির প্রয়োজন হয় না।
তারা আরও বলেন, “আমরা চাই, আমাদের এলাকার তরুণ সমাজ ভালো কাজে এগিয়ে আসুক। সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবিক কাজে অংশ নিলে একটি সুন্দর, শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

এদিকে সম্মাননা পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। তারা জানায়, তাদের মেধা ও অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ায় তারা আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করতে অনুপ্রাণিত হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মিলি রানী চন্দ, নিঝুম দেবনাথ, ধ্রুব দেবনাথসহ সম্মাননাপ্রাপ্ত পাঁচ শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।

সংগঠনের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মাননা প্রদানে আরও আন্তরিক হবে।

শিক্ষার প্রসার, মানবতার সেবা, কৃষকদের সহযোগিতা ও পরিবেশ রক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই গলহা ইসলামী ছাত্র ও যুব পরিষদের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।পরিশেষে পুরষ্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।